বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তিকে বিশেষজ্ঞরা ‘মাদার অফ অল ডিলস’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। কিন্তু কেন এটিকে এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব কী হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন ঘুরছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে নিখুঁত অংশীদারিত্বের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি বিশ্বের জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। চুক্তির ফলে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যের সুযোগ বাড়বে এবং দুই পক্ষই উপকৃত হবে। বিশেষভাবে বলা যায়, ভারতীয় বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের দাম কমতে পারে।
চুক্তির মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি, আনকাট হীরা, ইউরোপীয় চকলেট এবং স্কচ হুইস্কি, ভদকা, জিনের মতো পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হতে পারে। ফলে এগুলির দাম কমে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য হয়ে যাবে। একই সঙ্গে, ভারতের বস্ত্র, তাঁত, চামড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের শিল্পও বড় ধরনের সুবিধা পাবে। তবে এই চুক্তির আওতায় এখনও কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এই ক্ষেত্রগুলোতে দুই পক্ষই বাজার খুলতে এখনো প্রস্তুত নয়।
যদিও চুক্তি সই হয়েছে, এটি কার্যকর হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। কারণ ইউরোপীয় সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, এই চুক্তির আলোচনার সূচনা হয়েছিল ২০০৭ সালে, অর্থাৎ ১৮ বছর ধরে চলে আলোচনা। এই দীর্ঘ সময়ের পর চুক্তি সই হওয়া ভারতের জন্যও একটি বড় দৃষ্টান্ত, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান আরও শক্ত করবে।
আরও পড়ুনঃ Sujit Bose on Anandapur Fire: দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশ্নের মুখে দমকলমন্ত্রী সুজিত, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নয়া বিতর্ক!
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে পণ্যদ্রব্য বাণিজ্য প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। এর মধ্যে ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় শিল্প ও সাধারণ জনগণ আরও প্রতিযোগিতামূলক বাজার উপভোগ করতে পারবে। যদিও কিছু পণ্য এখনও সীমিত থাকলেও, এটি ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে।






