মানুষের জীবন বাঁচানোর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের নামেই যখন অভিযোগ ওঠে, তখন সেটি কেবল বিস্ময়ের নয়, আতঙ্কেরও। রোগীদের আস্থা যেখানে নির্ভর করে সাদা অ্যাপ্রনে থাকা একজন চিকিৎসকের উপর, সেখানে সেই দায়িত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর এক চেহারা প্রকাশ্যে এল ব্রিটেনে।
৫৫ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অমল বোস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্ল্যাকপুল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। দক্ষতার জন্য পরিচিত হলেও, কর্মস্থলের ভেতরেই সহকর্মীদের নিয়ে তাঁর আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি জুনিয়র মহিলা কর্মীদের অশালীন আচরণে বারবার হেনস্তা করেছেন। অবশেষে ২০২৩ সালে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে বরখাস্ত করা হয়।
প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচজন সহকর্মীকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন অমল। কারও স্তন খামচে ধরা, কারও শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য, আবার কখনও পকেটে হাত দিয়ে অপমানজনক আচরণ— এমন নানা ঘটনা ধাপে ধাপে সামনে আসে। এক নার্স জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় তাঁকে প্রকাশ্যে অপমানিত করা হয়েছিল। অন্য এক সহকর্মী বলেন, অমল তাঁকে “টাটকা মাংস” বলে বর্ণনা করেছিলেন।
মামলাটি পৌঁছয় প্রেস্টন ক্রাউন কোর্টে। শুনানির সময় বিচারক ইয়ান আনসওর্থ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অমল তাঁর পদমর্যাদা ব্যবহার করে দুর্বল সহকর্মীদের টার্গেট করেছেন। রোগী ও হাসপাতালের প্রতি দায়িত্ব পালনের আড়ালে লুকিয়ে তিনি আসলে এক ‘যৌন শিকারী’। আদালত এ-ও জানায়, এত গুরুতর অপরাধ করেও অমলের মধ্যে প্রকৃত অনুশোচনার কোনও চিহ্ন দেখা যায়নি।
আরও পড়ুনঃ Election Commission: এবার ভুল করে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ভয়ে শেষ! ব্যালটে এবার থেকে থাকবে সব প্রার্থীর রঙিন ছবি ও মোটা হরফের নাম!
সবশেষে আদালত তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। বিচারকের মন্তব্যে উঠে আসে— তিনি নিঃসন্দেহে একজন দক্ষ সার্জন ছিলেন, কিন্তু সেই পেশাগত সাফল্য তাঁর অপরাধকে আড়াল করতে পারে না। এই সাজা কেবল ভুক্তভোগী নার্স ও সহকর্মীদের জন্য ন্যায়বিচারের বার্তাই নয়, বরং চিকিৎসা জগতকে মনে করিয়ে দিল, দায়িত্বের আসনে থেকেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।





