গত কয়েক মাস ধরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নামটা যেন খুব বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বাংলায়। হবে নাই বা কেন, তাঁর মতো নির্ভীক, অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করা মানুষ আর কটাই বা রয়েছে। বিগত ১০ মাসে নিয়োগ দুর্নীতি-সহ ১০টি মামলার তদন্তভার তিনি তুলে দিয়েছেন সিবিআইয়ের হাতে। তাঁর নির্দেশের জেরেই পুজোর আগে শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি পেতে চলেছেন ১৮৭ জন চাকরিপ্রার্থী।
কিন্তু এই মানুষটির শিকড় কোথায়? একেবারে খাঁটি বাংলা মিডিয়াম স্কুল থেকে পড়াশোনা করা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অনেকটা অমসৃণ পথ পেরিয়ে প্রথমে নিজেকে ডব্লিউবিসিএস অফিসার রূপে প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সেখানে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় আইনচর্চায় মন দেন। তাঁর কথায়, ঠিক ভালোবেসে তিনি আইন নিয়ে চর্চা করেন নি। একপ্রকার চাপে পড়েই।
১৯৭৯ সালে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে পাশ করা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অনেকটা ভঙ্গুর পথ পেরিয়ে আজ বিচারপতি হয়েছেন। খুব কম বয়সেই বাবাকে হারান তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা ছেলেটির উপর বেশ চাপ বাড়ে। কিন্তু পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ছিল তাঁর মধ্যে। এই কারণেই ভর্তি হওয়া হাজরা ল’ কলেজে। সেখানে তিনি সহপাঠী হিসেবে এমন অনেককে পেয়েছিলেন যারা তাঁর জীবনাদর্শন বদলে দিয়েছেন।
ল’ কলেজে পড়লেও প্রথমেই আইনচর্চার কথা ভাবেন নি তিনি। সরকারি চাকরি পেয়ে ডব্লিউবিসিএস অফিসার হয়ে উত্তরবঙ্গে পোস্টিং হয় তাঁর। কিন্তু সেখানেও বাঁধ সাধে সংঘাত। স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা চাপ দিতে থাকে যে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে পাট্টা দিতে হবে। কিন্তু তাতে রাজি হননি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। চাপের মুখে পড়ে নতিস্বীকার না করে অবশেষে চাকরিটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
এরপরই আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতি জানান, “ভেবেছিলাম ৫০০ টাকা রোজগার করলেও চালিয়ে নেব, জজ হওয়ার কথা তো ভাবিই নি”। কিন্তু এত বড় একটা ঝুঁকি নিতে পরালেন তিনি? বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যয়ের কথায়, বাবা মারা যাওয়ার পর এতটা দুঃসময় দেখেছেন যে তা থেকেই বোধ হয় নিজের সমস্ত শক্তি ও সাহস পেয়েছিলেন আজকের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।





