‘কালীঘাটের কাকু’র কণ্ঠস্বর বদলের চেষ্টা? উঠল গুরুতর অভিযোগ, দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই কী এমন চেষ্টা সুজয়কৃষ্ণর?

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এসএসকেএমে ভর্তি তিনি। এবার তাঁর গলার স্বর বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। আসলে ইডি কালীঘাটের কাকুর গলার স্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে মুখিয়ে রয়েছে। এসএসকেএমে চিঠি দিলেও তা এখনও সম্ভব হয়নি।

সত্যিই কিঈ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর বদলানো সম্ভব?

এই বিষয়ে এসএসকেএমের ইএনটি বিশেষজ্ঞ অরুণাভ সেনগুপ্তের কথায়, “কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়। যেমন একটা বাচ্চার গলায় ছোটবেলায় বিরাট বড় টনসিল হল। বিশাল জায়গা নিয়ে তা রয়েছে। তার অপারেশন করতে হলে গলায় অনেকটা জায়গা হয়। অনেকে নাকেসুরে কথা বলেন। এটা একটা চেঞ্জ অব ভয়েস। গলার স্বরে কিন্তু কিছু করিনি। টনসিল দু’টো রিমুভ করায় জায়গা বেড়ে নাকেসুরে কথা হচ্ছে। আবার যারা গান করেন বা সঞ্চালক, শিক্ষক তাদের গলায় কড়া হয়। অনবরত কথা বলেন তাঁরা। অনেক সময় গলা বসে যায়, ফ্যাসফ্যাসে হয়ে যায় গলা। প্রাথমিকভাবে পাত্তা না দিলে পরে দেখা যায় ভোকাল নডিউল আছে। ভোকাল কর্ডে বেশি ঘর্ষণ হলে কড়া পড়ে যায়। ঠিক যেমন পায়ের নিচে পড়ে। সেই কড়া রিমুভ করলে গলা শ্রুতিমধুর হয়ে যায়। তখন তাঁর গলাটা বদলে গেল। ভোকাল কর্ডে ছোট্ট টিউমার থাকলে এবং তা বাদ দিলেও একই ঘটনা ঘটবে। এগুলোই গলা চেঞ্জ। ভোকাল কর্ডে সাধারণ গলা বদলায় না। তার মধ্যে টিউমার বা অন্য কিছু থাকলে গলা পরিষ্কার হয়ে যায়, মধুর গলা হয়ে যায়”।

আবার চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্তের দাবী, “কণ্ঠস্বরের বদল সম্ভব। অনেকের ভয়েসে সমস্যা থাকে। তা ঠিক করে দেওয়া হয়। তার জন্য অস্ত্রোপচারও করা হয়”।

কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করা হলে তা কী পরীক্ষা করে ধরা পড়ে না?

এই বিষয়ে চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্ত বলেন, “এটা একেবারেই অন্য ব্যাপার। তার পিচ, অ্যাম্পলিটিউড হয়ত বদলে দেওয়া যাবে। তবে রেসপিরেশন কোথায় নিচ্ছে, কথা বলার পদ্ধতি সেগুলো পাল্টানো বোধহয় মুশকিল”।

প্রসঙ্গত, একসময় বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যমের গলায় একটি অস্ত্রোপচার হয়। সেইসময় তাঁর কেরিয়ার তুঙ্গে। গলা ভার হয়ে আসছিল তাঁর। কথা বলতে, গান গাইতে অসুবিধা হত। একমাস গান গাইতে পারেন নি তিনি। এরপর অস্ত্রোপচার হয় তাঁর গলায়। খুব একটা জটিল অস্ত্রোপচার নয়। এরপর ২ থেকে ৬ মাসের ভয়েস রেস্টে ছিলেন তিনি। তারপর ফের গানের ফিরেছিলেন এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম।

RELATED Articles