নাগরাকাটার রাস্তায় সোমবার দুপুরে যা ঘটেছিল, তা নিয়ে এখনও চাঞ্চল্য থামেনি। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তাঁদের ঘিরে ধরে চলে হামলা। আহত হন দুজনই, তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে প্রশাসনের ভূমিকাকে ঘিরে।
শেষমেশ ৫৪ ঘণ্টা পেরিয়ে বুধবার রাতে হানা দিল পুলিশ। নাগরাকাটা কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও ধৃতদের নাম ও পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের দাবি, বাকিদেরও খোঁজ জারি আছে। মোট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তার মধ্যে দুইজনকে পাকড়াও করা গেছে। সূত্রের খবর, হামলার দিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন ধৃতরা।
গত সোমবার দুপুরে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় আচমকাই শুরু হয় হামলা। চারদিক থেকে ঘিরে ধরা হয় সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকেও সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনও গ্রেফতার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। সামাজিক মাধ্যমে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয় কড়া সমালোচনা।
বর্তমানে সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক দুজনেই চিকিৎসাধীন। শঙ্কর ঘোষকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সাংসদ মুর্মুর অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক। তাঁর চোখের নীচের হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দেখতে যান। এরপর বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুনঃ প্রথম স্ত্রী থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ে! ধর্মান্তর বিতর্কে মুখ খুললেন সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবার
ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চেয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাংসদের উপর হামলা হওয়ার পরও কেন পুলিশের পদক্ষেপে এত গাফিলতি? বিরোধীরা বলছে, প্রশাসনের উদাসীনতা থেকেই দুষ্কৃতীরা সাহস পাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে বন্যাত্রাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেফতারি সময়সাপেক্ষ।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যই আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে। নাগরাকাটা কাণ্ড এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





