বাঙালির বাড়িতে ছোট-বড় অনুষ্ঠান মানেই জমজমাট খাওয়াদাওয়া। অন্নপ্রাশন, জন্মদিন, গৃহপ্রবেশ কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান—এসবের বড় ভরসা ক্যাটারিং পরিষেবা। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কলকাতার ক্যাটারারদের কপালে। কারণ, রান্নার মূল ভরসা যে গ্যাস, সেটিই এখন বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে বলে দাবি তাঁদের।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গ্যাসের জোগানেও। কলকাতার বিভিন্ন ক্যাটারারদের অভিযোগ, ১৯ কেজি ও ৪৭.৫ কেজির কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার এখন প্রায় পাওয়াই যাচ্ছে না। ফলে বড় অনুষ্ঠানের রান্না নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই বলছেন, গ্যাসের অভাবে পরিষেবা দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্যাটারার আপাতত অন্য উপায় খুঁজছেন। কোথাও মেনু ছোট করা হচ্ছে, কোথাও আবার রান্নার পরিমাণ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কারণ, অধিকাংশ ক্যাটারারের কাছেই এখন সর্বোচ্চ এক থেকে দু’দিনের গ্যাস মজুত রয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ উঠছে, বাজারে কমার্শিয়াল গ্যাসের কালোবাজারিও নাকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েকদিন থাকে, তাহলে অনুষ্ঠান সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এক ক্যাটারিং সংস্থার কর্ণধার সুস্মিতা চক্রবর্তী জানান, “আমাদের কাজই হল ১৮০০ জনের মতো মানুষের খাবার তৈরি করা। সবটাই গ্যাস সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে কাজ করব। সমস্যাটা খুবই বড়, তবে সেটা অতিক্রম করেই এগোতে হবে।” অনেকের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বহু কর্মীর সাময়িক কাজও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ব্যক্তিগত জীবন তোলপাড়, তবু সম্পর্কের গুঞ্জন থামছে না! ভ্লগিংয়ের বন্ধুত্ব থেকেই নাকি আড়ালে চলছে প্রেম? সায়ক-দেবলীনা সম্পর্কের সত্যি কী? সব জল্পনার জবাব দিলেন গায়িকা নিজেই!
খাদ্য গবেষক ইন্দ্রজিত লাহিড়ীর মতে, “মানুষ কী খাবে তার সোজা উত্তর এই মুহূর্তে নেই। কিন্তু বাস্তব হল কিছু একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। আশা করা যায় সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে।” আপাতত পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে দিন গুনছেন কলকাতার ক্যাটারাররা। কারণ, গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে অনুষ্ঠান পরিচালনাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।





