বহুদিন আগে থেকেই চোরাকারবারীরা ভারত কিংবা ভারতের বাইরে থেকে দুষ্প্রাপ্য প্রাচীন মূর্তি আমদানি রপ্তানি করে আসছে। এই কাজ যে করোনা মহামারীর সময়েও বন্ধ নেই তা বোঝা গেল, যখন কলকাতা কাস্টমস উদ্ধার করল একটি দুটি নয়, ২৫টি প্রাচীন মূর্তি। যার বাজার মূল্য ৩৫ কোটি টাকারও বেশি। এবারে একটি ধান বোঝাই ট্রাক এর মধ্যে দিয়ে মূর্তি পাচারের চেষ্টা করছিল চোরাকারবারীরা। তবে এবারে তা রুখে দিয়েছে কাস্টমস আধিকারিকরা।
গত ২৩শে আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজ্যের শুল্ক কমিশনারেটরা হানা দেন কালিয়াগঞ্জে। চোরাকারবারিদের দলের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ মূর্তিগুলি পাচার করে দেওয়া। সেই কারণে তারা ভারত-বাংলাদেশের বর্ডারে গিয়ে জড়ো হয়েছিল। সেই কারণেই পুলিশদের চোখে ধুলো দেবার জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে একটি ধান বোঝাই ট্রাকে মূর্তিগুলি নিয়ে আসা হচ্ছিল বর্ডারে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়না, প্রশাসনিক কর্তারা আগেই টের পেয়ে ট্রাক আটকে উদ্ধার করেন ২৫ টি প্রাচীন মূর্তি।
https://twitter.com/ANI/status/1298611954051760128?s=20
সূত্র অনুযায়ী মূর্তিগুলি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত। যার মধ্যে রয়েছে পার্বতী মনসা বিষ্ণু ও সূর্যের পাথরের মূর্তি। ব্রোঞ্জ এবং অক্টোটো অ্যালো দিয়ে সাতটি ধাতব ও নিদর্শন। এর সাথে সাথে চোরাকারবারীরা হাতে ছিল হিন্দু ও জৈন মন্দিরের প্রতিমা এবং ১১ টি পোড়ামাটির মূর্তি। উদ্ধার হওয়া মূর্তিগুলি নবম থেকে ১৬শ শতকের।
শুল্ক কর্তারা মূর্তিগুলি পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অক্ষয় কুমার মৈত্র হেরিটেজ জাদুঘরের বিশেষজ্ঞদের কাছে। পাশাপাশি তারা নিজেও মূর্তিগুলি পরীক্ষা করেছেন এবং বহু প্রাচীন মূর্তি গুলির মূল্য ৩৫ কোটি টাকারও বেশি বলেই তাঁরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, কাস্টমস আধিকারিকরা ২০২০ সালেরই জানুয়ারি মাসে সাতটি মূর্তি উদ্ধার করেছিলেন। যাদের অর্থমূল্য ছিল ১১ কোটি টাকা। এইরকম ভারতের সম্পদ আর কতদিন চোরাকারবারীদের হাতে পড়ে বিদেশে পাচার হবে সেটাই ভাবনার বিষয়।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ





