দুর্গাপূজার মরশুমের মধ্যেই টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে নামছে প্রবল বর্ষণ। কলকাতার ব্যস্ত রাস্তা, চেনা মোড় কিংবা পাড়ার অলিগলিই যেন এক মুহূর্তে জলে ডুবে গেছে। সাধারণ মানুষের রোজকার জীবন ওলটপালট হয়ে গিয়েছে এই বৃষ্টির দাপটে। কেউ অফিসে যেতে পারছেন না, কেউ আবার বাড়ির সামনে জমে থাকা জলে আটকে পড়েছেন। এই অবস্থারই নানান দৃশ্য ধরা পড়েছে সাধারণ মানুষের মোবাইল ক্যামেরায়, যা এখন ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির প্রভাবে শহরের উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। ঠনঠনিয়া, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু করে মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট— সব জায়গায় হাঁটু সমান জল। দক্ষিণ কলকাতার অনেক রাস্তাতেও একই অবস্থা। ফলে গাড়ি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে জল ভেঙে পাড়ি দিচ্ছেন। এই সব কষ্টকর পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
জল জমে যাওয়ায় মানুষের নিত্যদিনের কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজে পৌঁছতে হিমশিম খাচ্ছেন সকলে। অনেক দোকানপাটে জল ঢুকে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। রাস্তায় আটকে থাকা গাড়ি ও জল কেটে হাঁটতে থাকা মানুষের ভিডিও দেখে একদিকে যেমন অবাক হচ্ছেন সকলে, অন্যদিকে দুঃখ প্রকাশ করছেন। এমনকি কোথাও কোথাও নৌকা বেয়েও মানুষকে চলাচল করতে দেখা গিয়েছে, যা আরও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
এই বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে হাসপাতালেও। ন্যাশনাল মেডিকেল, আর.জি. কর, এন.আর.এস. সহ একাধিক সরকারি মেডিকেল কলেজে জল ঢুকে যাওয়ায় চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য দেখা দিয়েছে ভয়ানক অসুবিধা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কোথাও আবার পানীয় জলের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য কলকাতা পৌরসভা ইতিমধ্যেই জল সরানোর কাজে পাম্প বসিয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah Visits Bengal :অমিত শাহের হাত ধরে উদ্বোধন হবে সজল ঘোষের পুজো ! দেবীপক্ষে উন্মাদনা কলকাতায়!
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ২৪৭.৫ মিলিমিটার। এত প্রবল বৃষ্টির কারণে শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে গিয়ে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহরতলির রেল ও মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই নাগরিকদের বাড়িতেই থাকার অনুরোধ করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে আপাতত রাতভর বৃষ্টির পর ভোগান্তির শহর কলকাতা সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন একেবারে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।





