শান্ত শীতল সন্ধ্যার মাঝে শহরের সাধারণ মানুষদের হৃদয় দুলিয়ে দিয়েছে এক নৃশংস ঘটনা। বাড়ির সামনেই প্রাণ হারালেন নবদ্বীপের মায়াপুরের বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিক। ঘটনাটি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ভয় ও হতাশার স্রোত সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি কোণ থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে—এভাবে কি আর শান্তিপূর্ণ জীবন সম্ভব?
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটেছে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সঞ্জয়ের বাড়িতে হঠাৎ প্রবেশ করে কয়েকজন ব্যক্তি। তারক দাস, গদাধর রায়, তাপস দাস ও অরিন্দম মণ্ডলসহ ছয়-সাতজন ওই সময় উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, তারা কোনো প্ররোচনা ছাড়াই সঞ্জয়কে ঘর থেকে বের করে এনে বাড়ির উঠোনে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। স্টিক, লাঠি ও হাত-পায়ের আঘাতে গুরুতর আহত হন সঞ্জয়। তার বাবা সুকুমার ভৌমিক (৬৫) ও মা অলকা দেবী (৬০)-কেও একইভাবে আক্রমণ করা হয়।
এই ঘটনার পর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। গতকাল অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দেবী পক্ষে মায়েরা কাঁদছে। একদিকে অভয়ার মা, তামান্নার মা, আরেকদিকে সঞ্জয়ের মা সন্তান হারা হল। মমতার রাজত্বে এই হল বাংলার আসল চেহারা।”
পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু অধিকারী ও স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিলও করেন। মিছিলে কালো পতাকা ও দলের পতাকা হাতে নিয়ে পদযাত্রা করেন তারা। এই প্রতিরোধ মিছিলের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ ও আক্রোশ ফুটে ওঠে। স্থানীয়রা এই ঘটনাকে তৃণমূলের সন্ত্রাস বলে অভিযোগ করেছেন, আর বিজেপি নেতৃত্ব এটিকে “টিএমসি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের কাজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Kolkata : বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা! রেল-মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইডাল শহরের ভয়াবহ চিত্র!
নিহতের পরিবার ও রাজ্য বিজেপির প্রতিক্রিয়ার পর এই হত্যাকাণ্ড আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো অজানা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে উঠেছে অনেক প্রশ্ন। সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই ঘটনার ফলাফল এবং বিচার প্রক্রিয়ার দিকে। নবদ্বীপে এই নৃশংস ঘটনার ঘটনায় মানুষের মধ্যে হতাশা ও রোষ বেড়েই চলেছে, আর আগামী দিনে এর প্রভাব রাজনীতির কৌশলে কতটা প্রতিফলিত হবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।





