রাজ্যের বেসরকারি স্কুলে ২০ শতাংশ ফি মকুব, নির্দেশ হাইকোর্টের

করোনা পরিস্থিতির জেরে গত ৮ মাস ধরে বন্ধ রাজ্যের সমস্ত স্কুল। পড়াশুনা চলছে অনলাইন। কিন্তু বেসরকারি স্কুলগুলিতে নিয়মমাফিক গুনতে হচ্ছে ফি। লকডাউনের জেরে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ থাকায় বন্ধ ছিল উপার্জনও। স্বভাবতই বাচ্চাদের স্কুলের ফি-এর জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন অভিভাবকেরা। স্কুলের ফি কম করার দাবীতে বারবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা অভিভাবকদের। তাদের অভিযোগ, স্কুল বন্ধ থাকলেও বেতনে কোনওরকম কাটছাঁট করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের থেকে কোনও আশানুরূপ ফল না মেলায় কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিভাবকেরা। এবার তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্কুলের ফি ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিল আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। এর পাশাপাশি মকুব করা হল নন-অ্যাকাডেমিক ফিও’।

এদিন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ফি ২০ শতাংশ কমাতে হবে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুলগুলিকে। তবে যেসব অভিভাবক ইতিমধ্যেই ফি জমা দিয়ে দিয়েছেন তাঁরা ফেরত পাবেন না। ভার্চুয়ালি পড়াশুনা হলেও বাসভাড়া, কম্পিউটার, ল্যাব ইত্যাদি নন-অ্যাকাডেমিক ফি নিচ্ছিল স্কুল্গুলি। এখন থেকে এই সব ফি মকুব করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

অভিভাবকদের আরও অন্য কিছু সুবিধা দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাইকোর্ট। এই কমিটিতে রয়েছেন হেরিটেজ স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল, মামলাকারীর আইনজীবী ও ব্যারিস্টার তিলক বসু। তবে এই ফি মকুব করে অভিভাবকদের আদৌ কতটা সাশ্রয় হল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ ইতিমধ্যেই প্রায় অর্ধেক শিক্ষাবর্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। হয়ে গিয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে স্কুলের বেশ কিছু পরীক্ষাও। বেশীরভাগ অভিভাবকই স্কুল ফি জমা দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু হাইকোর্টের নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা সেই টাকা ফেরত পাবেন না। কিন্তু তবুও অন্যান্য অভিভাবকদের উপর থেকে আর্থিক বোঝা কিছুটা হলেও কমবে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

RELATED Articles