Kunal Ghosh : বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি? বিজেপিকে কড়া জবাব কুণালের— ‘বাংলার মাটি আলাদা, চক্রান্তে কিছু হবে না’!

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন হিসেব-নিকেশ। রাজ্যের ফলাফল দেখে বিজেপি নেতারা আত্মবিশ্বাসী, তাদের দাবি— এবার সূর্যোদয় হবে বাংলায়। কিন্তু এই বক্তব্যে একেবারেই ভরসা রাখছেন না তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট মত, বাংলার রাজনীতি বিহারের মতো নয়, এখানকার মাটির চরিত্রই আলাদা।

বিহারে এনডিএ বিপুল আসনে জিততেই বিজেপির একাংশ দাবি করতে শুরু করে, বিহারের মতো পরিবর্তনের হাওয়া এবার বইবে বাংলাতেও। এই পরিস্থিতিতেই কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি বিহারের ফলের সঙ্গে বাংলার তুলনা টেনে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন। কুণালের বক্তব্য, বিহারের ভোট হয়েছিল বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR শেষ হওয়ার পর, আর বাংলাতেও এখন একই প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপির নেতারা সেই সূত্র ধরে যারা বাংলায় প্রভাব পড়বে বলছেন, তারা আসলে “অকারণ সময় নষ্ট করছেন।”

কুণাল আরও বলেন, বাংলায় উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার আর আত্মসম্মানই মূল ভিত্তি। তাই বিহারের ভোটের ফল বাংলায় কখনও প্রভাব ফেলতে পারে না। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ২৫০-র বেশি আসনে জিতবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন, বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাংলায় SIR বা তার আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে চক্রান্ত করতে পারে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অপব্যবহার হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সেখানেই থেমে থাকেননি কুণাল। বলেন, এইসব চক্রান্তের জবাব দেবে তৃণমূলের জনসংযোগ ও আন্দোলন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই হবে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের শক্তি। তাঁর মতে, বাংলার জনগণ জানেন কোন পথে চললে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। তাই গেরুয়া শিবিরের বিক্ষিপ্ত মন্তব্যে বাংলার মানুষ প্রভাবিত হবেন না।

আরও পড়ুনঃ Bihar election 2025 : মহাগাঁটবন্ধনের হাত ধরেও ঘুরল না খেলা! বাংলার পর বিহারেও লাল পতাকার ভরাডুবি—বামেদের শক্ত ঘাঁটিতে এনডিএ-র ঝড়!

কুণালের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দেওয়া নেতারা আসলে রাজনীতির বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত— বাংলার মাটি, মানুষ ও মনস্তত্ত্ব বিহারের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে মানুষ আবেগে নয়, অভিজ্ঞতায় ভোট দেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই আবারও তৃণমূলের সরকারের পক্ষে কাজ করবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles