Live Update – নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী এবং জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠক।

* এনআরএস থেকে মোট ৩১ জন জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে একটি সরকারি বাস রওনা হয় নবান্নের দিকে । রয়েছেন রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের একজন একজন করে প্রতিনিধি৷

 

* ৩১ জন জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই সেই বাস পৌঁছেছে নবান্নে৷ প্রত্যেকের পরিচয় পত্র দেখে তাদের নবান্নে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে৷

* নবান্নের কনফারেন্স রুমে বৈঠকের প্রস্তুতি। বৈঠকে হাজির থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব , কলকাতা পুলিশের কমিশনার সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ।

* নবান্নের ১৪ তলায় কনফারেন্স রুমে একে একে আসন গ্রহণ করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। চলছে বৈঠকের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ৷

 

* ইতিমধ্যেই বৈঠক স্থানে এসে পৌঁছেছেন স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা সহ কিছু সিনিয়র ডাক্তাররাও। অপেক্ষা মুখ্যমন্ত্রীর।

* বৈঠক স্থলে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিব,  কলকাতা পুলিশ কমিশনার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। শুরু হলো আজকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ।

 

* বক্তব্য রাখলেন প্রথম জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি, ” আমারা কেউ চাইনা রাজ্যে চিকিৎসার এই অচলাবস্থা চলুক। আমাদের ভয়ের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই আন্দোলন৷ আজকের এই বৈঠকে আসার মূল উদ্দেশ্য একটি সমাধানে আসা। আপনাদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। তাই যদি সম্ভব হয় তবে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। আমরা দ্রুতই কাজে ফিরতে চাই। ডাক্তারদের গায়ে হাততোলাটা অনেকেরই স্পর্ধায় চলে এসেছে৷ তাই দোষীদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যৎ-এ আর এইধরণের কোনো নিন্দনীয় ঘটনা না ঘটে। “

* সরকারের পক্ষে জানানো হয়, ” চিকিৎসক নিগ্রহকান্ডে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। “

* মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ” রোগীদের মৃত্যুর সংবাদ ডাক্তাররা না দিয়ে যদি রোগীর পরিবার এবং ডাক্তারদের মধ্যে এই কাজটি তৃতীয় কোনো ব্যক্তি করে তাবে ভালো হয়৷ ডাক্তাররা সারাদিনে তাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন৷ এরমধ্যে কোনো রোগী যদি মারা যান তবে তার খবর ডাক্তাররা সরাসরি রোগীর পরিবারকে না দিয়ে অন্য কেউ যদি রোগীর পরিবারকে ভালো মতো বুঝিয়ে বলতে পারেন তবে হয়তো সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে। সঙ্গে বহিরাগতদের রুখতে গেট লাগান। ইমারজেন্সির সম্মুখে কোলাপসিবলের গেট তৈরী করুন। “

 

* সরকারের তরফে জানানো হয়, ” এনআরএস এর কান্ডে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ ১ সপ্তাহের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাতের সুরক্ষার জন্য বিশেষ পুলিশ নিয়োগ করা হবে। ৩ টি চিফটে ৩ টি পিআর নিয়োগ হবে, যারা রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। সঙ্গে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নিয়োগ করা হবে নোডাল অফিসারদের। “

* জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি এর বক্তব্য, ” হাসপাতালগুলোর ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নতির প্রয়োজন৷ অনেক সময়ই অনেক দুরারোগ্য ব্যাধী বা কোনো অ্যাকসিডেন্টের ক্ষেত্রে চিকিৎসা সম্ভব হলেও, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অভাবে তা আমরা করতে পারছিনা। তাই এই বিষয়ে সরকার নজর দিলে ভালো হয়। “

* মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ” ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার অনেক ডেভেলপ করা হয়েছে৷ প্রত্যের জেলার হাসপাতালেই খোলা হয়েছে আইসিইউ৷ ইমারজেন্সিগুলোকে সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে। এখন অনেকেই বলছেন যে সরকারি হাসপাতালগুলো বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের হাতে ডাক্তার সংখ্যায় অনেক কম। সেটিই আমাদের সমস্যা। তাই তোমাদের অনুরোধ তোমরা বাংলায় থেকেই কাজ করো। “

* জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি, ” ডাক্তারদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভালোমতো দেখা প্রয়োজন। বারেবারে বিভিন্ন স্থানে ডাক্তারদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে। যা মানা যান না৷ তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন। আমরা চাই আপনি আমাদের জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়ান। ডাক্তারদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কড়া বার্তা দিক রাজ্য। “

* মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোষ প্রকাশ করেন এবং তারই সরকারি প্রতিনিধির নিকটে জানতে চান যে, চিকিৎসার বিভিন্ন মেশিন হাসপাতালে হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে কীনা৷ তিনি চাননা যে কোনো কিছু শুুধুমাত্র সেংশন হয়ে পরে থাকুক৷ সেংশন হয়ে কাজটি হয়ে যাওয়া প্রয়োজন৷ যে মেশিনগুলো কিনে রাখা হয়েছে তাতে মরচে পরে গেলে তা আর কাজে লাগবেনা তাই সেগুলোজে তাড়াতাড়ি হাসপাতালগুলোতে দিতে দেওয়া প্রয়োজন৷

* জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি, হাসপাতালে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়। অনেক সময় বেসরকারি রক্ষীরা পরিস্থিতি সামলাতে পারেনা৷ তাই প্রয়োজন বন্দুকধারী রক্ষীর৷ এছাড়াও এই হামলাগুলোর পর যে এফআইআর দায়ের হয় তা ফলোআপ করা হয়ে ওঠে না। তাই একটি ওয়েবসাইট বা কিছু যাতে বানানো হয় যাতে কীনা এই মমলাগুলো ফলোআপ করা সম্ভব হয়। মুখ্যমন্ত্রী এই দায়িত্ব দেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং ডিজি এর ওপর।

* এরপর বিভিন্ন হাসপাতালের বিভিন্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলেচনা হয় মুখ্যমন্ত্রীর৷ বিশেষ করে নজরে উঠে আসে নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজের দুরাবস্থার কথা৷ এরপরই বৈঠক শেষের দিকে এগিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জুনিয়র ডাক্তারদের অনুরোধ করেন কর্মবিরতি ছেড়ে ফের কাজে যোগ দিতে। জুনিয়র ডাক্তাররাও জানান যে তারা শীঘ্রই ফের কাজে যোগ দিতে চান৷

* বৈঠক আজকের মতো শেষ হয়৷ আপাতত এই বৈঠকের পর জুনিয়র ডাক্তারদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা মানুষ৷ এবারে কি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন জুনিয়র ডাক্তাররা? পুনরায় কি স্বাভাবিক হবে চিকিৎসা ব্যবস্থা। আপাতত সেদিকেই চোখ থাকবে রাজ্যবাসীর।

আরও অন্যান্য খবর