স্কুল থেকে চপের দোকান! চাকরি হারিয়ে সংসার চালাচ্ছেন মালদহের দম্পতি

এক সময় স্কুলে শিক্ষা কর্মীর পদে ছিলেন তনুশ্রী সাহা সিংহ ও তাঁর স্বামী বিজয় সিংহ। মালদহের রতুয়ার মনিপুরের সম্বলপুর অঞ্চল হাইস্কুলে ২০১৮ সালে একসঙ্গে নিয়োগ পেয়েছিলেন তারা। সব কিছু চলছিল ঠিকঠাক, কিন্তু ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় নাম ওঠার পর মুহূর্তে বদলে যায় তাদের জীবন। চাকরি হারিয়ে ভেঙে পড়ে সংসার, শেষ হয়ে যায় সঞ্চয়, কাঁধে চাপে ঋণের বোঝা।

তনুশ্রী জানান, চাকরি চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিলেন তিনি। সমাজের কটাক্ষ, অসহায়তা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত জীবনধারণের পথ খুঁজে নেন চপ-ঘুগনির দোকানে। আজ সেই দোকানই তাঁর নতুন ভরসা, নতুন লড়াইয়ের মঞ্চ। মালদহ শহরের রথবাড়ি এলাকায়, জেলা তৃণমূল কার্যালয় থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছোট্ট এক গুমটি ঘর ভাড়া করে শুরু করেছেন নিজের ব্যবসা।

দোকানে চপ, মুড়ি, ঘুগনি, চিপস, সিগারেট—সবই মেলে। তবে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর হাতে তৈরি গরম গরম চপ। স্কুলের শ্রেণিকক্ষের বদলে এখন সেই চপের দোকানই তাঁর জীবনের ক্লাসরুম। পড়াশোনার ফাঁকে ছেলেও মায়ের পাশে দোকানে হাত লাগায়। বিজয় এখন সংসার চালাতে গাড়ি চালান, মাঝেমধ্যে চপ ভাজার কাজেও হাত দেন।

তনুশ্রীর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই দায়ী। তাঁর কথায়, “আমাদের এই পরিণতির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী। ওনার জন্যই আজ পথে বসতে হয়েছে।” অন্যদিকে স্থানীয় এক গ্রাহক বলেন, “চাকরি গেল আদালতের রায়ে, কিন্তু পেট তো রায় বোঝে না। তাই চপের দোকানই তাঁদের ভরসা।”

আরও পড়ুনঃ হিজাব পরে আবু ধাবির মসজিদে দীপিকা, নতুন বিতর্কে অভিনেত্রী

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই পরস্পরকে দোষ দিচ্ছে। কিন্তু রাজনীতির বাইরে বাস্তবের মাটিতে, সংসার চালানোর তাগিদে চপের দোকানের গরম কড়াইয়েই আজ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মালদহের এই চাকরিহারা দম্পতি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর