‘বাংলার নামে ওরা শুধুই বলছে, কিন্তু কিস্যু করছে না।’, কেন্দ্র-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ মমতার

সোমবার কেন্দ্রের দুটি প্রতিনিধি দলের হঠাৎ পশ্চিমবঙ্গে আসার কারণে কিছুদিন আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার ফের একবার অভিযোগের সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বেশ কড়া মেজাজেই তিনি জানান, “রোজই মিটিং করছে, একে ওকে পাঠাচ্ছে। আমাদের কড়া চিঠি দিচ্ছে। কী হচ্ছে কী এসব? কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল বলছে কোথায় যেতে চান, আমরা সেইমতো ব্যবস্থাও করছি।”

পশ্চিমবঙ্গের সাথে বারবারই সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কেন্দ্রের। এই খবর নতুন কিছু নয়। তবে করোনার মধ্যে এই ঝামেলা যেন একটু বেশি মাত্রাতেই চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের হটস্পট তালিকায় এসেছে কলকাতার নাম। এছাড়া বঙ্গের অন্যান্য রাজ্যের পরিস্হিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র সরকার। এবার সেইসব জেলার হাল হকিকত খুঁটিয়ে দেখতে সোমবার রাজ্যে এসে পৌঁছেছে ২ টি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। এই দলের হঠাৎ আগমনে আবার শুরু হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত।

৫ সদস্যের দুটি দল রাজ্যের সমস্ত স্পর্শকাতর জেলাগুলোর পরিদর্শনে যাবেন। একটি দল যাবে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর এবং দ্বিতীয়টি যাবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং পরিদর্শনে। কিন্তু আগাম কিছু না জানিয়ে রাজ্যে এভাবে কেন্দ্রীয় দল আসায় চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্য প্রশাসন এবং এই বিষয়ে সোমবারই প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপরই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে কাজ করতে দেওয়ার জন্য মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। চিঠিতে রাজ্যের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকও। যার জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে মুখ্যসচিব লিখেছেন, তাঁর এহেন বক্তব্য সঠিক নয়। রাজ্য সরকার সবরকম সহযোগিতাই করছে।

এবার বিকালে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে করোনার টেস্ট কিট নিয়ে কেন্দ্রকে ফের একবার নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বাংলার নামে ওরা শুধুই বলছে, কিন্তু কিস্যু করছে না। যা কিট আইসিএমআর-নাইসেডের তরফ থেকে পাঠানো হয়েছিল তা সবই ডিফেক্টিভ। এমতাবস্থায় রাজ্যে টেস্ট করবো কি করে? এছাড়া র‍্যাপিড টেস্ট কিট, বিজিআই, আরটিপিসিআর কিট সবকিছুই আবার ফেরত নিয়ে নিয়েছে কেন্দ্র। অ্যান্টিজেন কিট বাংলায় পাওয়া যায় না। আমরা যে টেস্ট করিনি বলে কুৎসা রটাচ্ছে ওরা, তার জবাব কে দেবে? স্যাম্পেল পরীক্ষার জন্য একটি মিডিয়া লাগে তার সরবরাহ অত্যন্ত কম। আপনারা বুঝতে পারছেন আমরা ঠিক কোন বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে? কেন্দ্রের কী পরিকল্পনা তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে আক্রান্ত প্রতি ২ সোয়াব কিট লাগে। হিসেব করলে আরও ১৪,০০০-এর বেশি কিট দরকার। কিন্তু কেন্দ্র দিয়েছে মাত্র ২৫০০ কিট।”

তবে মুখ্যমন্ত্রী শুধু একা নন, কিট প্রসঙ্গকে অভিযোগ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইটে তিনি লেখেন, একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ত্রুটিপূর্ণ কিট পাঠিয়ে আমাদের সেই কিট ব্যবহার করতে বারণ করছে। অন্যদিকে আরোপ লাগানো হচ্ছে রাজ্য নাকি IMCT বা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে সহযোগিতা করছে না! বৰ্তমান পরিস্হিতিতে পশ্চিমবঙ্গে করোনার পরীক্ষার জন্য যেখানে ICMR কোনও কিট-ই পাঠায়নি, সেখানে IMCT কী খোঁজ নিতে এসেছে? বাংলার মানুষের জীবনের চেয়ে কি খবরে আসাটা খুবই দামী? প্রশ্ন ছুঁড়েছেন অভিষেক।

RELATED Articles

Leave a Comment