দেশের ঘরোয়া রান্নার গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ বাড়ছে। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সকলেই ভাবছেন, আগামিদিনে গ্যাস সিলিন্ডার কি ঠিকভাবে পৌঁছাবে? দক্ষিণ ভারতে বেঙ্গালুরু, চেন্নাইর মতো বড় শহরে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সমস্যায় পড়েছে। বিশেষ করে বিয়েবাড়ি ও হোটেল বুকিং প্রভাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার সতর্ক হয়েছেন এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন (Essential Commodities Act) কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গ্যাস সংকটের মূল কারণ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি অমিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট এলপিজি ব্যবহার হয়েছে ৩১.৩ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে মাত্র ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদিত হয়েছে দেশে, বাকিটা এসেছে বিদেশ থেকে। সেই আমদানির প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। কিন্তু বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হওয়ায় এই গ্যাস সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি উৎপাদক ও বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের অধীনে, উৎপাদিত প্রোপেন ও বিউটেন দিয়ে তৈরি এলপিজি সরবরাহ করতে হবে নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থা—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডকে। এর ফলে দেশের ঘরোয়া গ্যাস সরবরাহ যাতে স্থিতিশীল থাকে, সেই লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ টাকা, আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৫ টাকা। কলকাতায় ঘরোয়া ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা, মুম্বইতে ৯১৩ টাকা, এবং বাণিজ্যিক ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৯০ টাকা।
দক্ষিণ ভারতের বড় শহরগুলোতে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইতে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা ৯ মার্চ থেকে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বহু হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে এবং মেন্যু থেকে বেশি গ্যাস খরচ হওয়া আইটেম বাদ দিতে হয়েছে। গুরুগ্রাম ও মুম্বইর হোটেল মালিকরাও উদ্বিগ্ন। পুণেতে এমনকি গ্যাস চালিত শ্মশান অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করছে।
আরও পড়ুনঃ টেলিভিশন রামায়ণে সীতার মা হয়ে জয় করেছিলেন সবার মন, বাস্তবে হলেন নির্মম হ*ত্যার শি’কার! হঠাৎ ধারা’লো অ’স্ত্রের আঘা’তে র*ক্তাক্ত মৃ’ত্যু! ঊর্মিলা ভাটের হ’ত্যাকাণ্ড আজও রহস্যে ঘেরা! কী ঘটেছিল সেদিন অভিনেত্রীর সঙ্গে?
এদিকে দেশের নিরাপদ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন বুকিং নীতি চালু হয়েছে। এখন থেকে ২৫ দিনের ব্যবধানে গ্যাস সিলিন্ডারের বুকিং করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের চাপ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনও স্থিতিশীল, রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের ফলে ঘরোয়া গ্যাসের সরবরাহ অক্ষত থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমও প্রভাবিত হবে না।





