বনগাঁর রাজনৈতিক পরিবেশ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তপ্ত। এসআইআর (SIR) ইস্যু থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা— রাজ্যজুড়ে তর্ক-বিতর্ক বাড়ছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার ত্রিকোণ পার্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। সভা শুরুর আগেই মানুষের ভিড় ইঙ্গিত দিচ্ছিল, বক্তৃতা ঘিরে বড়সড় বার্তা আসতে চলেছে। তবে বক্তৃতার শুরুর টোনেই স্পষ্ট— মমতা এবার কিছুটা অন্য ছন্দে।
সভায় পৌঁছতে তাঁর দেরি হওয়ায় শুরুতেই ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ঠিক এখান থেকেই গল্পটা নতুন মোড় নেয়। হেলিকপ্টারে আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিমার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনাই যেন নতুন এক রাজনৈতিক ইঙ্গিত তৈরি করেছে। তিনি জানান, নির্বাচন শুরুই হয়নি তবুও ‘কনফ্রন্টেশন’ নাকি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাঁর মতে, এতে লাভই হয়েছে— কারণ রাস্তা ধরে আসতে আসতে বহু মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে, আর সেটাকেই তিনি নিজের শক্তি বলে দাবি করেন।
এখান থেকেই তিনি তীব্র সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করতে শুরু করেন। বারবার পুনরাবৃত্তি করেন তাঁর পরিচিত সতর্কবাণী— “আমার সঙ্গে খেলতে এসো না।” তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা কোটি কোটি টাকা ঢালতে পারে, এজেন্সি লাগাতে পারে, কিন্তু “মানুষ টাকা নেবে, ভোট দেবে না”— এই বিশ্বাস নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা ও রাজনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ টেনে মমতার মন্তব্য, “একবার টাকা দেবে, তারপর বছরের পর বছর চলবে কী করে!”— এই কথাগুলো সভামঞ্চে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এরপর এসআইআর প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপানউতোর চলছে। মমতার দাবি, এসআইআর করতে সাধারণত তিন বছর সময় লাগে, কিন্তু এখন “দুই মাসে করার তাড়া কেন”— এ প্রশ্ন তুলেই তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে sk লক্ষ্য করেন। তিনি পরিষ্কার বলেন, তৃণমূল এসআইআরের বিরোধী নয়, কিন্তু এই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়োর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : এসআইআর-এ গাফিলতি বরদাস্ত নয়! কাঞ্চন-মনোরঞ্জন-এর নাম নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ, ‘মানুষ ছেড়ে দেবে না’ সতর্কবার্তা অভিষেকের!
সভা শেষে স্পষ্ট— মমতা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি, বরং মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তাও দিয়েছেন, “আমরা থাকতে আপনাদের কাউকে তাড়াতে দেব না।” সেদিক থেকে বনগাঁর মাটিতে তাঁর এই শক্তিশালী বার্তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপিকে উদ্দেশ করে তাঁর শেষ সতর্কবাণীও যেন আরও এক দফা সংঘর্ষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে— “আমার সঙ্গে খেলতে গেলে ধরতেও পারবে না, ছুঁতেও পারবে না।”





