অযোধ্যা শহরজুড়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই এক অন্যরকম আবহ। রামলালার আবাসে যেন উৎসবের স্রোত। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের ভিড়, রাস্তাজুড়ে মন্ত্রোচ্চারণ, আর আকাশজোড়া প্রত্যাশা— সব মিলিয়ে অযোধ্যা যেন আরও একবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়াল। বহু বছরের অপেক্ষা, আবেগ, আর বিশ্বাসের পথ ধরেই সকালেই শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠানিক আয়োজন। তবে মূল আকর্ষণ ছিল রাম মন্দিরের গেরুয়া ধ্বজা উত্তোলন— যে মুহূর্ত দেখার জন্য উন্মুখ ছিল গোটা দেশ।
মঙ্গলবার ঠিক ১১টা ৪৮ মিনিট— রাম মন্দিরের গগনচুম্বী স্তম্ভে যখন উঠল গেরুয়া ধ্বজা, অযোধ্যার পথে পথে তখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয়, উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমন্ত্রিত প্রায় ৭ হাজার অতিথি। এই ধ্বজা উত্তোলনকে সাধারণ প্রশাসনিক ঘটনা নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবেই দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ভাষায়, এই দিন অযোধ্যাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেল, ‘রামময় হয়ে উঠল দেশ এবং বিশ্ব।’
এরপরেই প্রধানমন্ত্রী শুরু করেন তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা। সেখানে তিনি শুধু এই অনুষ্ঠানের মাহাত্ম্যই ব্যাখ্যা করেননি, বরং তুলে ধরেন দীর্ঘ ৫০০ বছরের এক যজ্ঞের সমাপ্তির কথাও। মোদীর দাবি, বহু ক্ষতের নিরাময় ঘটল এই গেরুয়া ধ্বজার মাধ্যেমে— যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর বক্তব্যের মাঝে কোথাও যেন বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গকে ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
মোদীর বক্তৃতায় বারবার উঠে এসেছে ‘রাম রাজ্য’-র প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, এই গেরুয়া শুধু একটি পতাকা নয়— এটি ভারতীয় সভ্যতার প্রতীক। ধ্বজার রঙ থেকে শুরু করে ওঁম চিহ্ন এবং সঙ্গে থাকা কোভিদার গাছ, সবই রাম রাজ্যের আদর্শকে তুলে ধরে। অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে তিনি উচ্চারণ করলেন ‘জয় সিয়ারাম’, যা অযোধ্যার নিজস্ব ঐতিহ্যকেই আরও স্পষ্ট করে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : “টাকা নেবে মানুষ, ভোট দেবে না”— কেন্দ্র-এজেন্সি ও বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ মমতার! বনগাঁ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন— কেন মাত্র ২ মাসেই এসআইআর?
রাজনৈতিক প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাননি প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার পর দেশ দাসত্বের মানসিকতা বহন করেছে— এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বিদেশি শাসনের প্রভাব, গণতন্ত্রের শিক্ষা— এসব উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বর্তমান রাজনৈতিক বার্তাও। তবে সবকিছুর শেষে অযোধ্যার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর একটাই দাবি— ভারত গণতন্ত্রের জনক এবং আজকের এই দিন সেই ঐতিহ্যেরও পুনর্মিলন।





