দিল্লির রাজনৈতিক করিডরে সোমবার বিকেলের বৈঠক শেষ হতেই অস্বাভাবিক উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় ছিল স্পষ্ট ক্ষোভ, চোখেমুখে অস্বস্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু বৈঠক, বহু মতভেদ দেখেছেন তিনি, কিন্তু এ দিনের অভিজ্ঞতা যে একেবারেই আলাদা—তা তাঁর কথাবার্তাতেই বোঝা যাচ্ছিল। কী ঘটেছিল ভিতরে, কেন এতটা ক্ষুব্ধ হলেন মুখ্যমন্ত্রী—সে প্রশ্ন তখনই ঘুরতে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে।
পরের দিন মঙ্গলবার, এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠকে ধীরে ধীরে সেই বৈঠকের অন্দরের ছবি সামনে আনেন মমতা। তিনি জানান, সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের সময় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে কথা বলা হয়, গলার স্বর চড়ানো হয়, এমনকি হুমকির সুরও ছিল। মমতার কথায়, “ভিতরে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, চিৎকার করা হয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতেই নিজেকে আর সংযত রাখতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চিৎকারের প্রতিবাদ করতেই তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন—‘চিৎকার করবেন না, আমরা আপনার দাস নই।’ শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার অভিযোগ, তৃণমূলকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে বলেই এমন অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে। কমিশনারের আচরণকে ‘জমিদারি মানসিকতা’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দলের অবস্থান কী হবে, সেই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে দেন—এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না। নাম বাদ পড়লে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিতও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কীভাবে, কোন পথে সেই লড়াই চলবে, তা আপাতত খোলসা করতে চাননি তিনি।
আরও পড়ুনঃ Suvendu on Mamata : সুপ্রিম কোর্টে শুনানি পিছোতেই তোলপাড় রাজনীতি—আইপ্যাক কাণ্ডে মমতার হলফনামা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী দলনেতার সুভেন্দু অধিকারীর!
উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের সাংসদ এবং এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে নির্বাচন সদনে যান মমতা। প্রায় সোওয়া এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, এত অহংকারী নির্বাচন কমিশন তিনি আগে দেখেননি। কমিশনারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির সেই বৈঠক ঘিরেই এখন বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আবহ—যার প্রভাব আগামী দিনে কতটা গভীর হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





