দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ঘিরে যখন প্রশাসনিক ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার স্রোত। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাজধানীতে বৈঠক ও আলোচনা চললেও, তার ছায়া পড়েছে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানের মধ্যেই এমন কিছু মন্তব্য উঠে এসেছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং নজর কেড়েছে সর্বস্তরের মানুষের।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার পরেই প্রকাশ্যে মুখ খোলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আইপ্যাক কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে হলফনামার বক্তব্যের কোনও মিল নেই, যা গোটা বিষয়টিকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জনসমক্ষে কিছু কথা স্বীকার করেছেন, অথচ আদালতে জমা দেওয়া নথিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত ও দিশাহীন হয়ে পড়েছেন বলেই এই ধরনের হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং হলফনামা পাশাপাশি রাখলে যে কোনও সাধারণ মানুষও বুঝতে পারবেন কোথায় গরমিল রয়েছে।
বিরোধী দলনেতার দাবি এখানেই থামেনি। তিনি বলেন, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকও জড়িয়ে পড়েছেন। নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজীব কুমার ও মনোজ বর্মার নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলেই মামলা দীর্ঘায়িত করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, হলফনামার বক্তব্যই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিপাকে পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ Ladakh issue: লাদাখ ইস্যুতে বাজেট অধিবেশন উত্তাল, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ঘিরে হট্টগোল—লোকসভা থেকে সাসপেন্ড ৮ MP!
এদিকে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামায় রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী যে নথি নিয়ে এসেছিলেন, তা তদন্ত সংক্রান্ত নয়। সেগুলি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নথি এবং ইডির অনুমতি নিয়েই তা আনা হয়। তাই নথি চুরি বা সরানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলাটি ওঠার পর ইডির তরফে হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য সময় চাওয়া হলে, রাজ্য সরকার তাতে সম্মতি জানায়। সেই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আইপ্যাক মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।





