Messi event: “এটা সম্পূর্ণ প্রাইভেট প্রোগ্রাম” — মেসি দর্শনে ব্যর্থতার পর যুবভারতী কাণ্ডে সরকারের অবস্থান ঘিরে তীব্র বিতর্ক!

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন—একসময় যা আবেগ আর উত্তেজনার কেন্দ্র ছিল, এখন সেটাই প্রশ্ন, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার প্রতীক। বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার মানুষ টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় দর্শকদের বড় অংশই ফিরে যান হতাশ হয়ে। তারপর থেকেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—টিকিটের টাকা ফেরত দেবে কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রাজ্য প্রশাসন থেকে আদালত পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছে যায়।

প্রথমে দর্শকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার। অনেকেই মনে করেন, যেহেতু অনুষ্ঠানটি যুবভারতীতে হয়েছে এবং নিরাপত্তা ছিল কড়া, তাই সরকারের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজ্য সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হতে শুরু করে। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, এই অনুষ্ঠান ছিল সম্পূর্ণ একটি প্রাইভেট আয়োজন। টিকিট বিক্রি, অর্থ আদায় বা দর্শকদের প্রতিশ্রুতি—এই কোনও বিষয়েই সরকারের সরাসরি ভূমিকা ছিল না।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সরকার কোনওভাবেই ‘রিকভারি এজেন্ট’ নয়। অর্থাৎ, টিকিট কেটে মেসির দর্শন না পাওয়ার ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সরকার নেবে না। শুধুমাত্র আদালত যদি নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ দেয়, তবেই সেই বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যথায়, অভিযোগ থাকলে তা আয়োজক সংস্থার কাছেই জানাতে হবে বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের ভূমিকা যে একেবারেই ছিল না, তা নয়। নিরাপত্তার প্রশ্নে আয়োজক সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছিল। সেই আবেদন অনুযায়ী মেসির সার্বিক নিরাপত্তায় এনএসজি কমান্ডোদের মোতায়েন করা হয়। রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, এবং সেই দায়িত্ব তারা পালন করেছে বলেই দাবি। এখানেই সরকার স্পষ্ট করেছে—নিরাপত্তা দেওয়া আর টিকিট বিক্রির দায়িত্ব এক নয়।

আরও পড়ুনঃ Asim Munir : “ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন আল্লার সাহায্য পেয়েছিলাম”-দাবি পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির!

এই কাণ্ড ঘিরে একাধিক মামলা দায়ের হলেও কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন বহাল রয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া চললেও, আদালত ও রাজ্য সরকার—দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছে। এখন নজর শুধু এক দিকেই—শেষ পর্যন্ত সাধারণ দর্শক আদৌ তাঁর ন্যায্য টাকা ফেরত পান কি না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles