West Bengal rape*case : “এরা তৃণমূল করে বলে মনে করেছে, যা খুশি তাই করবে!”—হিন্দমোটর কারখানায় নাবালিকা ধর্ষ*ণ কাণ্ডে অভিযুক্ত যুবকের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিরোধীর তোপ! রাজ্যে ফের নারী সুরক্ষা প্রশ্নে চাঞ্চল্য।

বন্ধ কারখানার অন্ধকারে যে ঘটনা সামনে এল, তা আবারও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। দিনের আলো ফুরোতেই যেখানে নীরবতা নেমে আসে, সেই পরিত্যক্ত জায়গাই হয়ে উঠল ভয়ংকর অপরাধের সাক্ষী। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তার আবহ। কে নিরাপদ, আর কে নয়—এই প্রশ্নেই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বছর ষোলোর এক নাবালিকা তার এক বন্ধুর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া হিন্দমোটর কারখানার ভিতরে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় সেখানে দুই সঙ্গীকে নিয়ে হাজির হন এক যুবক, যিনি নিজেকে শাসকদলের যুবনেতা বলে পরিচয় দেন। প্রথমে মেয়েটির বন্ধুকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরিত্যক্ত কারখানার ভিতরেই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পরেই নাবালিকা সাহস করে পরিবারকে জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে। তদন্তে নেমে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হয়। নাবালিকার স্বাস্থ্যপরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আরও দু’জন জড়িত ছিল, যারা এখনও পলাতক। তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। সিপিএম কর্মীরা উত্তরপাড়া থানার সামনে জিটি রোড অবরোধ করেন।

এই ঘটনার রাজনৈতিক রঙ আরও গাঢ় হয় বিরোধীদের অভিযোগে। বিজেপির দাবি, অভিযুক্ত যুবকের শাসকদলের একাধিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ছবি সমাজমাধ্যমে রয়েছে। বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল দত্ত বলেন, তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলেই অভিযুক্তরা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবছিল। অতীতে ওই যুবকের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল, যেখানে সে নিজেকে উত্তরপাড়া শহর যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি বলে পরিচয় দিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ Plane Cr*ash: উড়ান শুরুর পরই অশনি সংকেত! মাঝ আকাশে পাইলটের মে-ডে কল, আচমকাই জরুরি অবতরণ বিমানের!

তবে শাসকদল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা কালাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অপরাধীর কোনও দল হয় না। ক্ষমতায় থাকলেই দলে ঢুকে অপকর্ম করার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তাঁর দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নির্যাতিতার আইনি পরামর্শদাতা জানিয়েছেন, প্রশাসনের উপর আস্থা রাখা হচ্ছে। এখন একটাই দাবি—যেন দ্রুত বিচার হয় এবং দোষীরা কঠোর শাস্তি পায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles