ভারতের আকাশপথে সাম্প্রতিক একের পর এক ঘটনার জেরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা, তার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় উড়ানের যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণের খবর সামনে এসেছে। ঠিক এমনই এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল ওড়িশা, যেখানে মাঝ আকাশে বিপদের মুখে পড়ে একটি ছোট চার্টার্ড বিমান।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে। ভুবনেশ্বর থেকে রৌরকেল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় একটি ছোট চার্টার্ড বিমান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উড়ানটি ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর ছাড়ে। সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল শুরুতে। কিন্তু আকাশে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। পাইলট আচমকাই সমস্যার আঁচ পান এবং রৌরকেল্লা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
দুপুর ১টা ১৪ মিনিট নাগাদ পাইলটের তরফে পাঠানো হয় ‘মে-ডে’ কল। এই সংকেত স্পষ্ট করে দেয় যে বিমানে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। রৌরকেল্লা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে কানসোর এলাকার কাছে একটি ফাঁকা মাঠকে জরুরি অবতরণের জন্য বেছে নেন পাইলট। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই, আনুমানিক ১টা ২০ মিনিট নাগাদ, সেই মাঠেই নামানো হয় বিমানটি।
বিমানে ছিলেন চারজন যাত্রী এবং দুইজন ক্রু সদস্য। বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হওয়ায় সকলেই প্রাণে বেঁচেছেন। যদিও অবতরণের সময় কিছুটা আঘাত পান যাত্রীরা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনজন যাত্রী জেপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দুই পাইলট ও একজন যাত্রী রৌরকেল্লার সরকারি হাসপাতাল আরজিএইচ-এ ভর্তি। চিকিৎসকদের দাবি, ছয়জনেরই অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁরা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ I-PAC raid : বিচারপতি কোর্টরুম ছেড়ে যাওয়ার পর ভাইরাল তৃণমূল চ্যাট, তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক!
এই বিমানটি ছিল সেসনা গ্র্যান্ড C208B মডেলের, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর VT-KSS। ওড়িশা সরকার এক বিবৃতিতে পাইলটদের প্রশংসা করে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রিত জরুরি অবতরণের ফলেই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের সবরকম সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। বাণিজ্য ও পরিবহন দফতরও জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।





