দু’দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে ভুটানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার ব্যস্ততা, অন্যদিকে দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণকাণ্ড যেন ছায়া ফেলেছে তাঁর সফরসূচিতে। বিদেশের মাটিতে থেকেও সেই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ভুটানের ভূমি থেকেই দিল্লি বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।
ভুটান সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বলতে শোনা যায়, “আজ আমি অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে এখানে এসেছি।” তাঁর কথার মধ্যেই ফুটে ওঠে দিল্লির বিস্ফোরণ নিয়ে গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ। প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীতে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ শুধুমাত্র কয়েকটি পরিবারের নয়, সমগ্র জাতির বেদনা। আক্রান্তদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি তাঁদের দুঃখ বুঝতে পারছি। গোটা দেশ তাঁদের পাশে রয়েছে।”
মোদির বক্তব্যে উঠে এসেছে, তিনি ভুটান যাত্রার আগের রাত পর্যন্ত ঘটনার তদন্তে যুক্ত সমস্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এনআইএ (NIA) থেকে শুরু করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন—সবার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। তাঁর দাবি, তদন্তকারীরা একাধিক সূত্রে জুড়ে দিচ্ছেন তথ্যের সুতোগুলি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, ঘটনার শিকড় পর্যন্ত পৌঁছবে তদন্ত এবং কাউকে ছাড়া হবে না।
ভুটানের মাটিতেই দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, “আমাদের এজেন্সিগুলি এই ঘটনার মূল পর্যন্ত পৌঁছবে। ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ রেহাই পাবে না।” তাঁর এই বার্তা যেন সরাসরি পৌঁছে যায় সেইসব গোষ্ঠীর কাছে, যারা দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন করার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও দিক যেন অরক্ষিত না থাকে।
আরও পড়ুনঃ The Bengal Files : ডিজিটাল পর্দায় অবশেষে আসছে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’— কবে ও কোথায় দেখা যাবে বহু চর্চিত?
দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই আতঙ্কের বাতাবরণ। রাজধানীর ঘটনার পর একাধিক রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে রাজ্য প্রশাসন পর্যন্ত তৎপরতার বার্তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মন্তব্যে দেশবাসীর একাংশ মনে করছেন—এই ঘটনার পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন সকলের চোখ তদন্তকারীদের দিকে—কবে প্রকাশ পায় সেই ষড়যন্ত্রের আসল চেহারা।





