তিন বছর তিন মাসের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে মুক্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে মুক্তির পর বাইপাসের ধারে দেখা যায় তাঁকে। সাদা ফুলছাপ পাঞ্জাবি ও নীল মুখোশে মুখ ঢাকা পার্থকে দেখে যেন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন তাঁর অনুগামীরা। ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয় হাসপাতাল চত্বর। তবে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কেবল নীরবে ঘাড় নাড়লেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুর ২টো ২০ নাগাদ হুইলচেয়ারে চেপে হাসপাতালের দরজা পেরোন প্রাক্তন মন্ত্রী। পাশে ছিলেন অনুগামীদের ভিড়। চোখের কোণে জল, মুখে নীরবতা—দীর্ঘদিন পর স্বাধীনতার স্বাদে ভেসে উঠেছিলেন পার্থ। তাঁর অনুগামীরা বাইক মিছিল করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত। গাড়িতে বসেই হাতজোড় করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে।
নাকতলার বাড়ির দরজায় পা রাখতেই তাঁকে বরণ করেন পরিবারের সদস্যরা। ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও কন্যার উপস্থিতিতে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। পায়ে হেঁটে বাড়ির ভিতরে ঢুকেই চোখের জল মুছতে মুছতে স্মরণ করেন প্রয়াত মামা ও গীতিকার শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই মুহূর্তে বাইরে দাঁড়ানো অনুগামীদের কণ্ঠে আবারও ওঠে স্লোগান—“সত্যের জয় হবে!”
জেলমুক্তির পর প্রথম লিখিত বিবৃতিতে পার্থ জানান, “আইনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে সত্যের জয় হয়েছে, আগামী দিনেও হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যারা আমাকে সৎ মানুষ ভেবে পাঁচবার নির্বাচনে জিতিয়েছেন, তাঁদের কাছেই বিচার চাইব।” দীর্ঘ সময়ের নীরবতার পর তাঁর এই বার্তাই রাজনৈতিক মহলে নতুন সাড়া ফেলেছে।
২০২২ সালের ২৩ জুলাই নিয়োগ মামলায় নাকতলার বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ায় আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত সোমবার তাঁর জেলমুক্তির নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়। প্রেসিডেন্সি জেল থেকে নথি পৌঁছয় হাসপাতালে, তারপরই মুক্তির পথ খোলে প্রাক্তন মন্ত্রীর।
আরও পড়ুনঃ Delhi 10/ 11 Bla*st : দিল্লি বিস্ফো*রণেই বদলে গেল ভুটান সফরের আবহ! বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন নরেন্দ্র মোদি!
তিন বছর পর ঘরে ফেরা পার্থর কণ্ঠে এখন একটাই উচ্চারণ—“সত্যের জয় হবেই।” রাজনৈতিক লড়াই ও আইনি সংগ্রামের পর নতুন করে শুরু করতে চলেছেন তিনি, তবে এবার বিচার চাইবেন নিজের মানুষের কাছেই—বেহালা পশ্চিমের জনতার কাছে।





