সাধারণতন্ত্র দিবস মানেই শুধু কুচকাওয়াজ, পতাকা আর ছুটির আমেজ— এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যেই আছে। কিন্তু এই দিনটি যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আত্মসমীক্ষারও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, সে কথাই ফের একবার মনে করিয়ে দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংবিধান, জাতীয় পতাকা এবং নাগরিক কর্তব্য— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এল দায়িত্ববোধের কথা, যা শুধু শুনে যাওয়ার নয়, বরং বাস্তবে প্রয়োগ করার আহ্বান।
উত্তর বিহারের রাজ্য দফতর মধুকর নিকেতন প্রাঙ্গণে সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মোহন ভাগবত। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বয়ংসেবক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণতন্ত্র দিবস কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং এটি আমাদের কর্তব্য স্মরণ করার দিন। দেশের স্বাধীনতা ও সংবিধান যে আত্মত্যাগের ফসল, তা মনে রাখাই এই দিনের মূল শিক্ষা।
ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারতকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রে পরিণত করার দায় শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের। পূর্বপুরুষদের আত্মবলিদান তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের মানুষ আইন মেনে চলবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং নিজের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকবে। তাঁর কথায়, রাষ্ট্র গঠনের কাজ কোনও একক শক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস।
জাতীয় পতাকার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরএসএস প্রধান জানান, গেরুয়া রং ত্যাগ ও তপস্যার প্রতীক, যা আমাদের চিরন্তন সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। সাদা রং শান্তি ও পবিত্রতার বার্তা বহন করে, আর সবুজ রং উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কঠোর পরিশ্রমের ইঙ্গিত দেয়। অশোক চক্র আমাদের শেখায়— রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায় ও নীতি।
আরও পড়ুনঃ Republic Day Tableau 2026: স্বাধীনতার গান থেকে আধুনিক যুদ্ধের ছবি— প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলার ‘বন্দে মাতরম’ ট্যাবলো অন্যদিকে ট্রাইসার্ভিসের অপারেশন সিঁদুরে নজরকাড়া প্রদর্শনী!
সংবিধানের প্রসঙ্গে মোহন ভাগবত বলেন, বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর প্রণীত সংবিধান কেবল অধিকার দেয় না, বরং সঠিক আচরণ ও দায়িত্ব পালনের পথও দেখায়। সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করলে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। আইন মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য— এই বার্তাই তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়ই ভারত একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ প্রজাতন্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!