দিল্লির রাজনৈতিক করিডোরে হঠাৎই পালাবদল। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, রাজ্যের রাজনীতিতে যে একটি বড়সড় সমীকরণ নড়েচড়ে বসেছে, তা বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে মালদহকে ঘিরে পুরনো স্মৃতি, পারিবারিক রাজনীতি আর ভবিষ্যৎ লড়াই—সব মিলিয়ে এক পরিচিত নাম আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। কে কোথায় দাঁড়ালেন, কেনই বা এই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত—এই প্রশ্নগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরনো দলে প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি। তৃণমূল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে যোগ দেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিছক দলবদল নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মালদহের কোতওয়ালি পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। যোগদান পর্বে মৌসম জানান, তিনি কংগ্রেস পরিবারেরই সদস্য ছিলেন এবং পরিবারগত সিদ্ধান্তেই আবার একসঙ্গে কাজ করার পথে ফিরেছেন। তৃণমূলের প্রতি কোনও অভিযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং সোমবার রাজ্যসভায় ইস্তফা দেবেন।
মৌসমের রাজনৈতিক যাত্রাপথ নতুন নয়। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তর কেন্দ্র থেকে লোকসভায় জিতে সংসদে পা রাখেন তিনি। ২০১৪ সালেও একই প্রতীকে জয় আসে। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ছবিটা বদলে যায়। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করলেও, ত্রিমুখী ভোট ভাগাভাগিতে হার মানতে হয় তাঁকে। সেই সুযোগে বিজেপির খগেন মুর্মু মালদহ উত্তর দখল করেন। পরবর্তীতে তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করলেও, ২০২৪ সালের লোকসভা কিংবা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে আর সামনে আনা হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটেই ফের কংগ্রেসে ফেরা মৌসমের রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়ছে। মালদহের রাজনীতিতে গণিখান চৌধুরী আজও এক মিথ। সেই পরিবারের উত্তরাধিকার হিসেবেই মৌসমের পরিচিতি। তবে পরিবারের বাইরে নিজের আলাদা রাজনৈতিক জমি তৈরি করা তাঁর পক্ষে সহজ হয়নি। বর্তমানে গণি পরিবারের আর এক সদস্য ঈশা খান চৌধুরী কংগ্রেসের টিকিটে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ। ফলে পরিবারকে কেন্দ্র করেই কংগ্রেসে ফের একজোট হওয়ার এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : “বুথের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখতে হবে” — দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে ভোটের মাঠে তৃণমূলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ!
মৌসমের ‘ঘর ওয়াপসি’তে মালদহ জেলা কংগ্রেস নতুন করে অক্সিজেন পেতে পারে বলেই আশাবাদী দলের একাংশ। যদিও দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, এই যোগদানে বাস্তবে কতটা সাংগঠনিক লাভ হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রত্যাবর্তন মালদহের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা, সমীকরণ আর জল্পনার জন্ম দিল।





