করোনাভাইরাস নাকি মরণের হাতছানি?
সোমবার থেকে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।আর এই পরিস্থিতিতে পুরভোটের কি হবে? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলকে সরগরম করে রেখেছে।
বিজেপি সূত্রের খবর পাওয়া গেছে, আগামী ১৮ তারিখ নির্বাচন কমিশনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানাবে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি নেতৃত্ব এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠকও সেরে ফেলেছেন। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কথায়, “এই রকম উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কী ভাবে ভোট করা সম্ভব?” তাঁদের যুক্তি, “স্কুল কলেজে যদি ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে তাহলে বুথে কী হবে? সেখানে ভোট দেওয়ার জন্য শয়ে শয়ে মানুষ লাইন দেবেন। পাশাপাশি দাঁড়াবেন। ভোটকর্মীরা এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যাবেন। তাহলে সেখানে তো আরও বেশি সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যায়”।
বড়ো জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্হ্য কমিশন যার জেরে কলকাতায় বন্ধ হয়েছে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ও ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ। তাহলে ভোটে যে এত মানুষের জমায়েত হতে চলেছে বহু জায়গায় তা কি মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা আরো বাড়াচ্ছে না? এই নিয়ে ব্যাপক জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
অনেকের মতামত দেশের সর্বত্র বিভিন্ন ‘ইভেন্ট’-এর ক্ষেত্রে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভোটও একটি বড় ইভেন্ট যাকে এককথায় বলে গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভোট করানো মানে জীবনের ঝুঁকি।
শুধু ভোটের দিন নয়। তার আগে প্রচার পর্বেরও একটা ব্যাপার আছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলি যদি সভা-সমাবেশ করে প্রচারই না করতে পারে, কমিশন যদি সেই সুযোগ না করে দিতে পারে, তাহলে ভোট কী ভাবে সম্ভব।
এ ব্যাপারে রাজ্যের কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনের দিকে তাকিয়ে আছি।”
অন্যদিকে কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা এদিন বলেন, কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট করানোর ব্যাপারে শাসক দলের সঙ্গে জোট করে খেলা শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন যাতে বিরোধীদের প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে ভোট করিয়ে ফেলা যায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে যখন সব স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে,তখন কমিশনকেও তা নিয়ে ভাবতে হবে। যেনতেন ভাবে ভোট করিয়ে দিলেই চলবে না।
সবাই এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ভোট-এর প্রহর গুনছে। মানুষের কথা ভেবে ভোট পিছবে নাকি রাজনীতির খেলায় মানুষের জীবনে ঘনিয়ে আসবে চরম বিপদ তা নিয়ে সব মহলই চিন্তিত।





