বীরভূমের এক অদ্ভুত কান্ড। ভোটার তালিকায় লেখা — নরেন্দ্র মোদী! শুনে প্রথমেই অনেকের চোখ কপালে উঠেছে। কেউ বলছে, এটা নিশ্চয়ই কোনও ভুল। কেউ আবার হেসে ফেলছেন, “প্রধানমন্ত্রীই বুঝি বীরভূমে ভোট দিচ্ছেন?” কিন্তু বাস্তবটা জানলে হাসির সঙ্গে সঙ্গে অবাক হবেন হতে হয়। কারণ এ কোনও কাকতালীয় নয়, সত্যিই বীরভূমের দুবরাজপুরে আছেন এক নরেন্দ্র মোদী, যিনি এই বাংলারই নাগরিক।
দুবরাজপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়ায় তাঁর বাড়ি। পেশায় ব্যবসায়ী, আর স্থানীয়দের কাছে তিনি বেশি পরিচিত “মুন্না” নামেই। কিন্তু দূরে কোথাও গেলে বা কোনও অফিসে নিজের নাম বলতে হলে সমস্যায় পড়েন তিনি। হেসে নিজেই বলেন, “আসানসোলে একবার ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম, নাম বলার পর সবাই হেসে বলল— বাবা রে! নরেন্দ্র মোদী চলে এসেছে!” নাম শুনে চমকানো এখন তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
আসলে রাজস্থানের বংশোদ্ভূত এই নরেন্দ্র মোদীর পরিবার বহু বছর আগে থেকেই বীরভূমে বসবাস করছে। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন পুরোপুরি। দিব্যি বাংলায় কথা বলেন, বীরভূমের শিশু বিদ্যাপীঠ স্কুলে ভোটও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নন, সাধারণ মানুষই তিনি — কিন্তু নামের মিলই তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে সবার থেকে। তাঁর নামের পাশে আরেক নাম যোগ হতেই এই কাহিনি আরও মজার হয়ে ওঠে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামের সঙ্গে মিল তো আছেই, কিন্তু এখানেই শেষ নয়। দুবরাজপুরের নরেন্দ্র মোদীর বড় দিদির নামও মমতা! শুনে অনেকেই মজা করে বলেন, “বাহ, এক পরিবারে প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে!” তবে হাসতে হাসতেই ওই নরেন্দ্র বলেন, “আমরা এক ভাই তিন বোন, বড় দিদির নাম মমতা, কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী নন, সাধারণ গৃহবধূ।”
আরও পড়ুনঃ Devuthani Ekadashi 2025: ১৪২ দিন পর ঘুম ভাঙছে নারায়ণের, শ্রীহরির আশীর্বাদে ভাগ্য খুলবে ৪ রাশির
দুবরাজপুরের এই কাহিনি এখন শহরজুড়ে আলোচনার বিষয়। কেউ মজা করে বলেন, “আমাদের এলাকায়ই দেশের বড় দুই নেতার নামের মিল থাকা পরিবার থাকে।” আবার কেউ মনে করেন, এটা কেবল নামের কাকতালীয়তা, কিন্তু এতে মানুষের ভালোবাসা আর হাস্যরসের দিকটাই ফুটে উঠেছে। নরেন্দ্র নিজেও বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী নই, সাধারণ মানুষ—কিন্তু নামের জন্য সবাই হাসিমুখে কথা বলে, এটাও কম পাওনা নয়।”





