Partha Chatterjee: সব মামলায় জামিন পেয়েও জেলে পার্থ! বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী!

দীর্ঘ তিন বছর ধরে বন্দি অবস্থায় আছেন তিনি। একসময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, দলীয় দাপুটে নেতা—আজ সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিন কাটছে জেলের চার দেওয়ালের মধ্যেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, বদলেছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণও। তবু তাঁর মুক্তি মিলছে না। জামিন পেলেও জেল থেকে বেরোনো যেন এখনো অধরা স্বপ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দুর্নীতির শেষ মামলাতেও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তবুও জেলের দরজা খোলেনি। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ—চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জ গঠন এবং দুই মাসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলছে মন্থর গতিতে। মঙ্গলবার আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের ভার্চুয়াল শুনানিতে যোগ দিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে।

সেই শুনানিতেই বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন মন্ত্রীর। তিনি বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত শেষ হয়, সে জন্য দরকার হলে নিজের হয়ে নিজেই সওয়াল করব।” আদালতে এমন মন্তব্যে উপস্থিত আইনজীবীরাও কিছুটা বিস্মিত হন। পার্থের অভিযোগ, “আমার মামলায় (গ্রুপ সি) ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু প্রক্রিয়া যেভাবে টেনে নেওয়া হচ্ছে, তাতে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।”

২০২২ সালের জুলাই থেকে তিনি বন্দি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। ইতিমধ্যে ইডি ও সিবিআইয়ের দায়ের করা সব মামলাতেই জামিন মেলে তাঁর। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় জেল থেকে মুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে মুক্তি দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi:বাংলার ভোটার তালিকায় নরেন্দ্র মোদী ও মমতা এক পরিবারের সদস্য! বীরভূমে ছড়াল গুঞ্জন—রাজনৈতিক খেলা, না কি কাকতালীয় কাহিনী?

বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বই যেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় হতাশার কারণ। তাঁর বক্তব্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি সম্পূর্ণ না হওয়ার জেরে মুক্তির পথ বন্ধ হয়ে আছে। এখন তিনি আশাবাদী, আদালত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করবে এবং তিনি অবশেষে মুক্তির মুখ দেখবেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনায় আসলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী—যিনি আজও নিজের ‘ন্যায়বিচারের দিনের’ অপেক্ষায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles