ভোরের নিস্তব্ধতা ভাঙছে এক নতুন সুরে। এবার আর তীব্র বাঁশি বা চিৎকারের শব্দে শুরু হবে না দিনের কর্মযজ্ঞ। গানের মৃদু সুর কানে আসলেই বোঝা যাবে সকালের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হতে চলেছে। অনেকেই হয়তো প্রথমে অবাক হবেন, তবে শুনতে মনোমুগ্ধকর এই সুরের সঙ্গে শহরও জেগে উঠছে।
এবার শহরের মানুষদের জাগ্রত করার পদ্ধতিতে এসেছে এক অভিনব পরিবর্তন। কেবল শব্দ নয়, এবার ভোরবেলা বাজবে পরিচিত রবীন্দ্রসঙ্গীত। মৃদু সুরে জানানো হবে, বাড়ির দরজার বাইরে এসেছে সেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের অংশ যা আগে বাঁশির মাধ্যমে হতো। এই নতুন পদ্ধতিতে শুধু ময়লা তুলে নেওয়ার কাজ নয়, মানুষের মনও প্রফুল্ল হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রতিটি গাড়িতে থাকবে ট্র্যাকার, যাতে জানা যায় কে কোথায় কাজ করছেন এবং ফাঁকিবাজি রোধ করা যায়।
এই অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে। এখানে ২৫টি ওয়ার্ডে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করেন। শহরের রাস্তা এবং বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য রয়েছে বিশেষভাবে সাজানো গাড়ি, ভ্যান এবং রিকশা। প্রতিদিন নিয়ম করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই গাড়ি পৌঁছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এবার প্রতিটি ময়লার গাড়িতে থাকবে সাউন্ড বক্স, যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজবে। সাতসকালে এই সুর শুনে নাগরিকরা আনন্দিত হবেন এবং তাদের মনোবলও বাড়বে।
পুরসভার মোট ১৫টি ময়লা সংগ্রহের গাড়ি রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আলাদা ভ্যান গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। মোট পঁচিশ ওয়ার্ড মিলিয়ে এক শতাধিক সাফাই কর্মী নিয়োজিত আছেন। তবে অতীতে কিছু কর্মী ঠিকমত বাড়ি বাড়ি যেতে পারতেন না। এবার ট্র্যাকার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ির অবস্থান জানা যাবে, এবং কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
আরও পড়ুনঃ “মারা যাওয়ার আগে বারবার বলেছিল, ভীষণ ভয় পেত…” ঈশ্বরের সঙ্গে অদ্ভুত যোগ, জ়ুবিন গার্গের প্রয়াণের ছয় মাস পরে স্ত্রী গরিমার আবেগঘন স্মৃতিচারণা! প্রকাশ্যে আনলেন কঠিন সত্যি, যা বেঁচে থাকাকালীন কাউকে জানাননি গায়ক?
এই নতুন উদ্যোগে শহরের মানুষ কৌতূহল ও আনন্দ অনুভব করছেন। বাঁশি বা চিৎকারের বদলে রবীন্দ্রনাথের মৃদু সুরে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোরবেলায় এই গান শুনে মানুষ ময়লা ফেলার জন্য আরও উৎসাহী হবেন এবং শহর হবে পরিচ্ছন্ন ও প্রফুল্ল।





