আগামী ১৯শে ডিসেম্বর রয়েছে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। সমস্ত দলই নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। চলছে জোরকদমে প্রচারও। মধ্য কলকাতার ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের তরফে প্রার্থী হয়েছেন উপনীতা পাণ্ডে। সবথেকে কনিষ্ঠতম প্রার্থী তিনি, বয়স মাত্র ২৪। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্যে স্নাতকোত্তরের ছাত্রী সে।
গত বৃহস্পতিবার নিজের ওয়ার্ডে ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন উপনীতা। স্বভাবতই এত ছোটো বয়সী একজন প্রার্থীকে দেখে সকলেই হতবাক। এরই মধ্যে উপনীতাকে কিছু পরামর্শও দিয়ে ফেললেন এক প্রৌঢ় ভোটার। জমিয়ে আড্ডাও হল দুজনের। প্রার্থীর কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কোথায় পড়াশোনা করেন, কী নিয়ে পড়েন, এসব। এমনকি, উপনীতাকে এও জিজ্ঞাসা করেন, “তোমাদের দলের পাকাচুলের নেতারা সব কই? তারা প্রচার করছেন না?”
সব বাউন্সারই বেশ দক্ষ হাতেই সামলান উপনীতা। প্রৌঢ় এমনও বলেন, “জেইউ আর জেএনইউ, ওখানেই দলটা চলে”। এরপরই তাঁর পরামর্শ, “এখানে থেকে লাভ নেই, পার্টি ছেড়ে চাকরি করো। রাজ্য ছেড়ে বাইরে চলে যাও”।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এখন নিজেদের গা থেকে বৃদ্ধাশ্রম তকমা হাটাতে তৎপর। ভোট থেকে সংগঠন, এব ক্ষেত্রেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে তরুণদের। তবে দলের মধ্যে যে জেনারেশন গ্যাপ তৈরি হয়েছে, তা দলের অনেকেই স্বীকার করেছেন। মাঝের কয়েকটা প্রজন্মের যোগ্য তরুণরা নেতৃত্বের জায়গায় উঠে আসতেই পারেন নি।
তবে উপনীতাকে দু’দিক সামলাতে হচ্ছে। একদিকে পরীক্ষার প্রস্তুতি, অন্যদিকে ভোটের প্রস্তুতি।, তিনি এই এলাকারই বাসিন্দা। এই জায়গার সমস্যার সঙ্গে তিনি পরিচিত। তাঁর কথায়, “এই ওয়ার্ডটি যেহেতু কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে গেছে, তাই প্রতিদিন প্রচুর মানুষের আনাগোনা। এই ওয়ার্ডে একাধিক স্কুল-কলেজ রয়েছে। বৃষ্টি হলেই এলাকায় জল জমে যায়। জঞ্জাল জমার সমস্যাও রয়েছে”।
তবে উপনীতআর কথায় গত কয়েক বছরে উন্নতি হলেও, আরও উন্নতির প্রয়োজন। এতদিন উপনীতা রেড ভলান্টিয়ার্সের দায়িত্ব সামলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাস রাজনীতি করেছেন। আর এবার দলের হয়ে রাজনীতি।
এই ওয়ার্ডটি তৃণমূলের দখলেই ছিল। তিনবার এখানে কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলেন অপরাজিতা দাশগুপ্ত। সেই জায়গায় এই বছর লড়ছেন তৃণমূলের মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেরবার বামেরা এই ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থান পায়। এবারেও কি স্থান ধরে রাখতে পারবে? আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপনীতার জবাব, “দ্বিতীয় হওয়ার জন্য তো লড়ছি না, প্রথম হওয়ার জন্য লড়ছি। মানুষের কাছে এই আশা নিয়েই পৌঁছাচ্ছি”।





