রাজ্যে সরকারি হাসপাতাল মানেই চিকিৎসার ভরসার জায়গা। অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসার আশায় ছুটে আসেন সেখানে। কিন্তু সেই হাসপাতালের ভেতরেই যদি নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তবে উদ্বেগ বাড়ে আরও বেশি। গত বছরের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ধর্ষণ-কাণ্ডের স্মৃতি আজও মানুষের মনে তাজা। সেই আতঙ্ক ভুলতে না ভুলতেই ফের এক সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অভিযোগ উঠে এল, যা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অস্থায়ী মহিলা কর্মীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের ভেতরেই তাঁদের ধর্ষণ করতেন ঠিকাদার সংস্থার ফেসিলিটি ম্যানেজার। শুধু তাই নয়, মুখ খুললে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেওয়ার ভয় দেখানো হত বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতারা। অভিযোগ আরও গুরুতর—প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। অবশেষে সাহস করে এক নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পাঁশকুড়া থানায়।
অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। সোমবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কোলাঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত জাহির আব্বাস খানকে। পাঁশকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সমর দে জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একজন নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগপত্রে আরও দুই নির্যাতিতার নামও উঠে এসেছে। অভিযুক্তকে মঙ্গলবার তমলুক আদালতে তোলা হবে এবং ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায় পাঁশকুড়া এলাকায়। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কাজ করা মহিলাদের এভাবে বারবার হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে অথচ নিরাপত্তার দিকটায় প্রশাসন নজর দিচ্ছে না। তাঁদের দাবি, দ্রুত দোষীর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কেউ এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।
আরও পড়ুনঃ Gang ra* pe :বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা! পুরীর সৈকতে তরুণীকে গণধ*র্ষণের অভিযোগ
অবশ্য ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের আশ্রয়েই অভিযুক্ত এতদিন প্রভাব খাটাতে পেরেছেন। তাদের দাবি, এই ঘটনায় সরকারের দায় এড়ানো যায় না। তবে সেই অভিযোগকে নস্যাৎ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা শেখ সামিরউদ্দিন স্পষ্ট জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং নাম ভাঙিয়ে দালালি চালাত সে। তাঁর কথায়, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দোষীর কঠোর শাস্তি হোক, এটাই আমাদের দাবি।” রাজ্যে সরকারি হাসপাতাল ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল এই ঘটনার পর।





