ছুটির দিনে বন্ধুর সঙ্গে সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক তরুণী। ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হল তাঁর জন্য। নিরিবিলি ঝাউবনের আড়ালে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা ফের কাঁপিয়ে দিল ওড়িশার পুরী জেলাকে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে পুরীর একটি সমুদ্রসৈকতের কাছে ঘুরতে গিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সি ওই কলেজছাত্রী এবং তাঁর এক বন্ধু। সেই সময় স্থানীয় কিছু যুবক তাঁদের ছবি ও ভিডিও তুলতে শুরু করেন। এতে আপত্তি জানাতেই উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, ওই যুবকেরা প্রথমে তরুণীর বন্ধুর উপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করেন।
শুধু মারধরেই থেমে থাকেননি অভিযুক্তেরা। অভিযোগ, সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি ঝাউবনে গিয়ে ১৯ বছর বয়সি তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন নির্যাতিতা। ঘটনার পরে কিছু সময় চুপ থাকলেও, সাহস সঞ্চয় করে সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুরী জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার এবং এক জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, এই নৃশংস ঘটনায় আরও কয়েক জনের যোগ রয়েছে। তাঁদের শনাক্ত করতে তল্লাশি চলছে। পুলিশ সুপার প্রতীক সিংহ জানিয়েছেন, “প্রথমে মানসিক চাপে তরুণী ঘটনাটি জানাতে দ্বিধা করছিলেন। পরে মহিলা পুলিশ আধিকারিকেরা তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি অভিযোগ জানান।”
আরও পড়ুনঃ Santoshpur Fir*e News: ট্রেন চলাচলে ভোগান্তি, ধোঁয়ায় ঢেকেছে প্ল্যাটফর্ম! বিধ্বং*সী আগুনে বিপর্যস্ত সন্তোষপুর স্টেশন!
তিন মাস আগেই ওড়িশার গঞ্জাম জেলার গোপালপুর সমুদ্রসৈকতে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে এক কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। ফলে ফের এমন অপরাধ সামনে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এইবার ভুক্তভোগী এবং তাঁর বন্ধু দু’জনেই স্থানীয় বাসিন্দা, তবু পর্যটকদের ভিড় থাকা সত্ত্বেও এমন অপরাধ ঘটায় ক্ষোভ বেড়েছে। অভিযুক্তদের মোবাইলে ছবি ও ভিডিও থাকার সূত্র ধরে ব্ল্যাকমেল করারও চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।





