‘৪ তারিখের পর তোকেও টেনে নিয়ে যাব’ ভোট-পরবর্তী হিং*সায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ইটখোলা অঞ্চলে বিজেপি সমর্থকদের উপর হামলা, ভাঙচুর, এমনকি গুলি চলার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনায় এক মহিলাসহ দুই জন গুরুতর জখম হয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি, আর এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার রাতে ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার ইটখোলার মধুখালী এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী লাঠি, রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়। এই হামলায় গুরুতর জখম হন দীপিকা নস্কর ও কবির কৃষ্ণ হালদার। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, কবিরবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সর্দার এবং তাঁর অনুগামীদের দিকে। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূল পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে।

আরও পড়ুন: ভোট মিটতেই ফের ইউ-টার্ন হুমায়ুন কবীরের! তৃণমূলের দিকে ‘সন্ধি’র হাত বাড়িয়ে দিলেন বহিষ্কৃত নেতা? ভোট গণনার আগেই ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি!

আহত দীপিকা নস্কর সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, “রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি কয়েকজন এসে আমার মুরগির ঘর থেকে মুরগি টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি বাধা দিলে ওরা বলে, ‘৪ তারিখের পর তোকেও টেনে নিয়ে যাব।’ আমি প্রতিবাদ করতেই আমাকে বিছানায় ফেলে মারধর করা হয়।” তাঁর দাবি, ওই রাতে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলি চালানো হয় এবং বন্দুকের বাঁট দিয়েও মারধর করা হয়। তাঁর কথায় স্পষ্ট আতঙ্ক এবং ক্ষোভ, একজন সাধারণ মানুষের জীবনে এই ধরনের ঘটনা কতটা ভয়াবহ, তা যেন ফুটে উঠেছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বহু বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে, এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তীব্র হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, ভোটের পর কি এভাবেই চলবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি?

RELATED Articles