হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে প্রশ্নবাণ, “মুসলিমদের বহু বিবাহ বিজেপি কি বৈধতা দিল?” মদন মিত্রের মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক!

নির্বাচনের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত জীবন কতটা জায়গা পেতে পারে, তা নিয়ে আবারও বিতর্কের পারদ চড়ল বঙ্গ রাজনীতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে এক বিজেপি নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক তরজায়। প্রকাশ্যে সরাসরি নাম না করেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, পালটা কটাক্ষ আর রাজনৈতিক রং মিশে গোটা বিষয়টি এখন শুধুই ব্যক্তিগত পরিসরে আটকে নেই। বরং তা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে দলের অবস্থান, আদর্শ এবং দ্বিচারিতা নিয়েও।

এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এক অনুষ্ঠানে বিজেপিকে নিশানা করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। অভিনেতা ও বিজেপি নেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মদনের মন্তব্য, “মুসলিমদের বহু বিবাহ বিজেপি কি অ্যালাও করে দিল?”—এই একটি বাক্যেই নতুন করে আগুনে ঘি পড়ে। বিজেপির তরফে তখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, মদনের এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিষয়টি যে শুধুই ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা মহলে কানাঘুষো চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া পেরিয়ে সেই চর্চা পৌঁছে যায় রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলেও। তবে হিরণ নিজে যেমন এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি, তেমনই রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে নীরবতা বজায় রাখে। এই নীরবতাকেই হাতিয়ার করে রাজনৈতিক আক্রমণের সুর আরও চড়ায় তৃণমূল।

মদন মিত্রের মন্তব্যের পালটা জবাব দিতে এগিয়ে আসেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রথমেই কটাক্ষ করেন মদনের ব্যক্তিত্ব ও বক্তব্যের ভঙ্গিকে। রুদ্রনীলের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রেম, বিয়ে, ডিভোর্স বা সম্পর্ক—সবই একজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এই জায়গায় রাজনীতি টেনে আনা বা প্রকাশ্যে মন্তব্য করা অনুচিত। তাঁর মতে, যাঁরা এসব নিয়ে সময় নষ্ট করছেন, তাঁরা আসলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক উসকে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ Jadavpur University :সরস্বতী পুজোয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তি নজরদারি নির্দেশ হাই কোর্টের!

রুদ্রনীল আরও বলেন, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এমন একজন মানুষ যিনি নিজের মতো করে জীবনযাপন করেন। তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দায় কোনও দল বা সহকর্মীর নয়। এই ঘটনায় যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা নিজেদের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যাঁকে নিয়ে এত চর্চা, তাঁর দিক থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। তাই অর্ধসত্য বা অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয় বলেই মনে করেন তিনি। সবশেষে রুদ্রনীলের মন্তব্য, আইন মেনে, কাউকে কষ্ট না দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের মূল কথা—এবং এই ধরনের ঘটনায় রাজনীতি বা পেশার কোনও ভূমিকা থাকা উচিত নয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles