সপ্তাহ পেরোলেই দুর্গাপুজোর মেজাজ শুরু হবে শহরে। প্রায় দোরগোড়ায় উঁকি দিচ্ছে পুজো। কিন্তু তার আগেই কপালে ঘাম জমতে শুরু করল কলকাতাবাসীর। পুজোর মুখে ফেল অগ্নিমূল্য বাজার। সব্জির পাশাপাশি টেক্কা দিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আলু ও পেঁয়াজের দাম।
রবিবার সকাল। ছুটির মেজাজে শহরবাসী। রবিবার মানেই পাতে থাকবে লোভনীয় কিছু পদ। কিন্তু বাজারে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ। ৫০-৬০ টাকার নীচে নেই কোনও সব্জি। কি কিনবেন? পটল, বেগুন, ঢেঁড়স প্রতি কেজি দরে ৫০-৬০ টাকা। এদিকে সব্জি ছেড়ে আলু পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকতেই আবার বিপত্তি। খোলা বাজারে জ্যোতি আলু বিকোচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে ও চন্দ্রমুখী কেজি প্রতি ৪০ টাকা। পেঁয়াজের দামে চোখে জল আসতে বাধ্য শহরবাসীর। পেঁয়াজের দাম তো অনেকদিন আগেই হাফ সেঞ্চুরি পার করেছিল, আজ তা গিয়ে ঠেকেছে ৬০ টাকা প্রতি কেজি। আজ দক্ষিণ কলকাতার লেক মার্কেটের ছবিটা খানিকটা এরকমই। তবে উত্তর কলকাতা হোক বা দক্ষিণ, বাজার দরের ফারাক বিশেষ নেই, কোথাও উনিশ তো কোথাও বিশ। ক্রেতাদের এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারাও স্বীকার করেন বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। দামের চক্করে কমেছে বিক্রি। আলুর দাম এই মুহূর্তে কমার কোনও সম্ভাবনা আছে কি না জিজ্ঞেস করাতে খানিকটা আশাহতই হতে হল। তাদের মতে, আপাতত এই মুহূর্তে পুজোর মুখে আলু বা পেঁয়াজের দাম থাকবে ঊর্ধ্বমুখীই।
অন্যদিকে, দাম চরেছে আমিষ বাজারেও। এই করোনা পরিস্থিতিতে প্রোটিনের জোগানের জন্য ডিম একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য, কিন্তু এই ডিমই এখন বিক্রি হচ্ছে জোড়াপ্রতি ১৪ টাকা দরে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে ডিম গত মার্চ মাসেও বিক্রি হয়েছে ৩.৯০ টাকায়, সেখানে দাঁড়িয়ে তার বর্তমান মূল্য এতো বেশী কেন? খোঁজ নিতে জানা যায়, শহরে ডিমের জোগান কমেছে ব্যাপক হারে। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে কলকাতায় প্রায় ৪০-৪৫ লক্ষ ডিম আসত কলকাতার ছোটো ও বড় বাজারগুলিতে। কিন্তু এখন সেই জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধন্ধে পরেছেন পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীরা। সব দেখেশুনে শহরবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন, পুজোর মুখে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব্জির এতো চড়া দাম হলে তা জোগান দেব কীভাবে?





