লকডাউনের জেরে দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত ১৬ ই মার্চ থেকেই রাজ্যে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ বেসরকারি স্কুল গুলি তাদের ফিজ তিন মাস ধরে নিয়ে গিয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা না মেনেই অনেক স্কুলই পুরো টাকা নিয়েছে।
এবার এই নিয়ে ফের সরব হলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বুধবার বলেছেন, কোনও বেসরকারি স্কুল বাড়তি ফি নিতে পারবে না। উনি যেটা বলেছেন, সেটা আমাদের নির্দেশ বলে ধরে নিতে হবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরও এর আগে এ ব্যাপারে একাধিক বার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বহু স্কুল সেই নির্দেশিকা মেনেছে। আবার অনেকে মানেনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দেওয়ার জন্য সব বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।’
অর্থাৎ এর থেকেই স্পষ্ট এই বিষয়ে কড়া মনোভাব পোষণ করছে সরকার। যদি এরপরেও এই স্কুলগুলি সরকারের নির্দেশিকা না মানে তবে সম্ভবত রাজ্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও নিতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী এ দিন জানান, পরিষেবা দেওয়া না-হলেও কোনও খাতে ফি নেওয়া হচ্ছে বলে কারোর অভিযোগ থাকলে, তাঁরা শিক্ষা দপ্তরে তা জানাতে পারেন। যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এক বছর বর্ধিত ফি নেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, ধর্মতলার মেট্রো সিনেমা হলের সামনে এ দিন ইউনাইটেড গার্ডিয়ান্স ফোরাম জমায়েত করে। তারপর তাঁদের মিছিল করে রাজভবনের সামনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সংগঠনের আহ্বায়ক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, পুলিশ চৌরঙ্গির মোড়ে মিছিল আটকায়। সেখানে সভার পর তিনজনের প্রতিনিধি দলকে রাজভবনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জন্য রাজ্যপাল তাঁদের সঙ্গে দেখা না করলেও তাঁর অফিস দাবিসনদ জমা নিয়েছে।
অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রী একটি বিষয়ে সিপিএমকে একটি বিষয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘কেরালায় কেন শিক্ষকদের এক মাসের বদলে ২৫ দিনের বেতন দেওয়া হচ্ছে? আমরা কিন্তু কোনও স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকার এক পয়সাও কাটা হয়নি। সিপিএমের যে সব বন্ধু অনেক কথা বলেন, তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনারা যেখানে ক্ষমতায়, সেখানে শিক্ষকদের মাইনে কেটে নিলেন কেন?’





