Reaction of Sagar for the order of Hawker Eviction: গত সোমবার নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে আচমকাই একটা নির্দেশ। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। বেআইনিভাবে ফুটপাত দখল করে থাকা ঝুপড়ি, দোকান, হোটেল সব তুলে দিতে হবে। দলের নেতা, মন্ত্রীদের বেশ কড়া ধমক দিয়ে পুলিশকে এমন নির্দেশই দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপর থেকেই ঘুম উড়েছে হকারদের (Reaction of Sagar for the order of Hawker Eviction)।
ফুটপাতে এক চিলতে পাইস হোটেল বা জামাকাপড়ের দোকান দিয়েই তাদের রুজি-রোজগার হয়। এভাবেই বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই চালয়ে যাচ্ছেন হকাররা। মানুষকে সুস্বাদু খাবার খাইয়ে ফুড ভ্লগারদের দৌলতে ভাইরাল হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু যদি সেই দোকানটাই না থাকে, তাহলে আর কীসের ভাইরাল হওয়া বা খাবার তৈরি করা! এই কথা ভেবেই যেন গা শিউড়ে উঠছে ফুটপাতের হকারদের। তাদের মধ্যে রয়েছে সাগরও (Reaction of Sagar for the order of Hawker Eviction)।
ফুড ভ্লগারদের দৌলতে দারুণ ভাইরাল হয় সাগরের হোটেল। রাসবিহারী থেকে গড়িয়াহাট যাওয়ার পথেই তাঁর এই দোকানে এই ভিড় দেখলে যে কোনও বড় বড় রেস্তোরাঁও লজ্জা পাবে। বাঁশের খুঁটি পুঁতে টিনের চাল দেওয়া এক চিলতে দোকানটাই সাগরের লক্ষ্মী। কিন্তু সেই লক্ষ্মীই এবার ভিটেছাড়া হতে চলেছে। পুলিশের নির্দেশ এসেছে যে পাত্তারি গোটাতে হবে। সেই কারণে সেই তোড়জোড় চলছে এখন সাগরের। কিন্তু সরকারের এই নির্দেশে কী জানাচ্ছেন সাগর (Reaction of Sagar for the order of Hawker Eviction)?
সাগরের কথায়, “প্রশাসন ভালো কিছু করার জন্যেই এটা করছে। আমরা নেগেটিভ দিক না দেখে পজিটিভ দিকটা দেখি। মুখ্যমন্ত্রী এটা ভালোর জন্যেই করছেন, যাতে পরবর্তীকালে আমরা আরও গুছিয়ে দোকানটা করতে পারি। এটাই ওঁর হয়তো পরিকল্পনা” (Reaction of Sagar for the order of Hawker Eviction)।
শুধু সাগরই নয়, এমন উচ্ছেদ হওয়ার পথে নানান দোকানিরাই (Reaction of Sagar for the order of Hawker Eviction)। এর মধ্যে রয়েছেন ভাইরাল হওয়া প্রায় পঞ্চাশ বছরের কাছাকাছি রাগী মাসিও। তাঁর কাছেও এসেছে পুলিশের কড়া নির্দেশ। দোকানের শেডের যেটুকু অংশ, তার মধ্যেই সমস্ত জিনিস রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইরে রাস্তার ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা চলবে না বলে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাগী মাসি বলেন, “একমাস সময় দিয়েছে ভালো। সকলের যা হবে আমারও তাই হবে। অনেকের কাছ থেকে মাসিক টাকা নেওয়া আছে। হোটেল বন্ধ করলে তো চলবে না। অল্প করে রান্না করে চালাচ্ছি”।
তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উচ্ছেদ নয়, বেআইনি দখলদারি বন্ধ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাউকে বেকার করে দেওয়ার বাসনা নেই তাঁর। তিনি চান ফুটপাত দখলমুক্ত হোক কিন্তু হকাররাও রোজগার করুক। দোকানগুলিকে অন্যত্র কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সত্যিই শেষ পর্যন্ত এই দোকানগুলির ভবিষ্যৎ কী, তা তো সময়ই বলবে!





