হারাতে হবে না প্রিয় ‘কালি-কলম’কে, সহজেই সারিয়ে তুলুন নিজের ‘অসুস্থ পেন’কে, খাস কলকাতাতেই রয়েছে পেন হাসপাতাল

‘হারিয়ে যাওয়া কালি-কলম’, এই প্রবন্ধটি অল্পবিস্তর আমাদের সকলের জানা। কলম বলি বা পেন, এটা যেন আমাদের সকলের কাছেই এক নস্টালজিক বস্তু। সেই কোন ছোটবেলায় পেনসিল ছেড়ে পেন দিয়ে লেখা শুরু। জীবনের কত সুখ-দুঃখের গল্প, কত হিসেব-নিকেশ সবটাই তো পেনকে ঘিরেই হয়। সেই কারণে পেন আমাদের জীবনের বেশ কাছের জিনিস বলা হয়।

কোনও কোনও মানুষের এক একটি পেন তাদের কাছে যেন দুর্লভ বস্তু। কোনও পছন্দের জিনিসের উপর আমাদের যেমন মায়া পড়ে যায়, সেটাকে ছাড়তে যেমন আমাদের কষ্ট হয়। তেমনই নিজের প্রিয় পেনের প্রতিও অনেকেই তেমনই আকৃষ্ট। কিন্তু কালের নিয়মে একদিন তো পেনকেও অসুস্থ হতে হয়। আর ধীরে ধীরে নিজের সমস্ত শক্তি হারিয়ে অন্যান্য বস্তুর মতোই বিলীন হয়ে সেও।

কিন্তু এবার যদি আপনি জানতে পারেন যে আপনার সেই ‘অসুস্থ’ পেনকে সারিয়ে তোলার জন্যও এক দারুণ উপায় রয়েছে। খাস কলকাতাতেই রয়েছে পেন হাসপাতাল। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। পেনের জন্যই হাসপাতাল রয়েছে কলকাতার বুকেই। এখান থেকেই আপনার অসুস্থ পেন অর্থাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া, না-চলা পেনকে আপনি সহজেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে পেতে পারেন।

কলকাতার এসপ্লানেডের চৌরঙ্গী রোডে রয়েছে একটি অতি পুরনো দোকান যেখান পেন সারানো হয়। স্বাধীনতার আগে ১৯৪৫ সালে শুরু হয় এই দোকানটি। ৭৮ বছরের পুরনো এই দোকানের রমরমা কিন্তু এখনও কম হয়নি। এতগুলো বছর ধরে নানান মানুষের নানান প্রিয় পেন সারিয়ে তুলছেন এই দোকানের কর্মচারীরা।

এই দোকান থেকে নিজের পেন সারিয়েছেন অনেক তাবড় তাবড় রথী-মহারথীরাও। এই হাসপাতাল অর্থাৎ দোকান থেকে নিজের পেন সারিয়েছিলেন অস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়। শুধুমাত্র পেন সারানোই নয়, এই দোকানে রয়েছে হরেক রকমের পেনের সম্ভারও।

নানান ধরণের পুরনো যাকে আমরা ‘ভিনটেজ’ বলি আর কী, সেই পেনেরও দেখা মিলবে এই দোকানেই। নানান ধরণের দেশি-বিদেশি পেনও মেলে এক একই দোকানে। এই দোকানকে পেনের লাইব্রেরিও বললে মনে হয় ভুল হবে না। পুরনো পেনই নয়, নতুন নতুন পেন, এমনকি কালিও মেলে এই দোকানে। নানান পুরনো ফাউন্টেন পেন যা হয়ত এখন আর তৈরিও হয় না, সেই পেনও পাওয়া যায় এই ৭৮ বছরের পুরনো দোকানে।

তাহলে আর কী, নিজের পুরনো পেন খারাপ হয়ে গেলে আর মন খারাপ করে সেটাকে ফেলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠছে না। সোজা চলে যান ধর্মতলায় আর সারিয়ে তুলুন নিজের পুরনো পেনকে। নস্টালজিয়াকে হারাতে দেবেন না যেন!

RELATED Articles