বাড়িতে সকাল সকাল অতিথি! দুঁদে সিবিআই গোয়েন্দাদের ৭৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখলেন আর জি কর কান্ডের মাস্টারমাইন্ড সন্দীপ

তিনি ছিলেন বর্তমান বাংলা, তথা দেশ এবং বিশ্বে সব থেকে চর্চিত হাসপাতাল আর জি করের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল। তার হাত ধরেই শহরের অন্যতম নামী এই হাসপাতাল হয়ে উঠেছিল অপরাধীদের আখড়া। প্রিন্সিপাল এই নামের আড়ালে বহু দুষ্কর্ম, তছরুপ, অন্যায় কাজকর্মের সঙ্গে লিপ্ত হয়েছিলেন তিনি।

একজন চিকিৎসকের নাম সদাই সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করা হয়। তবে তার ক্ষেত্রে অসম্মান প্রদর্শনটা বোধ হয় একটু বেশি হয়ে যাবে। আসলে তার কর্মকাণ্ড এতটাই নিম্নমানের। গোটা বাংলার চোখে এখন তিনি অপরাধী। আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ, খুনের মামলাকে প্রথমে আত্মহত্যার মামলা সাজিয়েছিলেন তিনি। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোনোর মতোই বেরিয়ে এসেছে তার একাধিক দুষ্কর্মের কথা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে তিলোত্তমা কান্ডের তদন্ত করছে সিবিআই। ইতিমধ্যেই সন্দীপ ঘোষকে ১০০ ঘন্টা জেরা করে ফেলেছে দুঁদে গোয়েন্দারা। গতকালও ১২ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছে‌ তাঁকে। আর আজ সোজা সিবিআই হানা দিল সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে। একেবারে সাতসকালে। ৬টা বেজে ৪৫ মিনিটে সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বাইরে পৌঁছন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এরপর কলিং বেল বাজিয়ে, দরজায় ধাক্কা দিয়েও দরজা খোলে নি কেউ।

বহুক্ষণ ধরে তার নাম ধরে ডেকেও সফল হননি সিবিআই তদন্তকারীরা। ফোনেও সন্দীপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলে। যথারীতি সন্দীপের বাড়িতে সিবিআই অফিসারদের দেখে এলাকায় ভিড় জমে যায়। কিন্তু সন্দীপের দেখা নেই। এরপর বেলেঘাটা থানায় যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা। আর তাতেই মেলে সুফল। প্রায় ৭৫ মিনিট পর দরজা খুলে দেন সন্দীপ ঘোষ। গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আবারও ভিতরে ঢুকে যান তিনি।‌

আরও পড়ুন: ২৭ আগস্ট নবান্ন অভিযানকে পাখির চোখ, নিশ্ছিদ্র দুর্গ নবান্ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ৯৭ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক

ইতিমধ্যেই মিলেছে সন্দীপের পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি। আর সেই আবহেই এবার তার বাড়িতে হানা দিল সিবিআই। যদিও কী কারণে গোয়েন্দারা সন্দীপের বাড়ির বাইরে হাজির হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে নিরাপত্তা নিয়েও যথেষ্ট কড়াকড়ি রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘিরে রেখেছেন জায়গা। তবে কি এবার গ্রেফতার হবেন সন্দীপ?

RELATED Articles