RG KAR case : আর কি আশা নেই? আর জি কর মামলায় বড় ধাক্কা—সব মামলা ছেড়ে দিল বিচারপতি বসাকের বেঞ্চ, এবার কোন আদালতে হবে পরবর্তী শুনানি?

একটি ঘটনার পর মাস কেটে গেলেও যখন প্রশ্নের উত্তর মেলে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে জন্ম নেয় হতাশা। কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে ঠিক তেমনই এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার আবহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার নৃশংসতা প্রথম থেকেই রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। পরিবার, চিকিৎসক মহল এবং সাধারণ মানুষ—সবার একটাই দাবি ছিল, সত্যিটা সম্পূর্ণভাবে সামনে আসুক। কিন্তু সাম্প্রতিক আদালতের এক সিদ্ধান্তে এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের তরফ থেকেও পৃথকভাবে আবেদন করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তদন্তের গতি ও দিক নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষিতেই মামলাগুলি শুনছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে সাম্প্রতিক শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ মামলার গতিপথে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল।

শুনানির সময় বিচারপতি দেবাংশু বসাক জানান, এই মামলাটি পূর্বতন প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সেই সময় এই ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। কারণ তখন ফৌজদারি সংক্রান্ত আবেদনগুলিও এই বেঞ্চে শোনা হত। কিন্তু বর্তমানে আদালতের কাঠামো ও দায়িত্বের পরিবর্তনের ফলে এই বেঞ্চ আর সেই ধরনের মামলা শুনছে না। ফলে দীর্ঘ শুনানির এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা এই বেঞ্চের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।

আদালতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই মামলার শুনানির জন্য আদালতে মেনশন করা হয়েছে এবং প্রধান বিচারপতির কাছেও ই-মেল পাঠানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিভিশন বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলাই তারা ছেড়ে দিচ্ছে। এখন এই মামলাগুলি কোন বেঞ্চে শুনানি হবে এবং কে বিচার করবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান বিচারপতি। ফলে মামলার পরবর্তী ধাপ পুরোপুরি নির্ভর করছে সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর।

আরও পড়ুনঃ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক সফল বাংলা ছবিতে, বলিউড নায়িকাদের কণ্ঠের পেছনে ছিলেন এই টলিউডের অভিনেত্রী! অবশেষে নিজেই ফাঁস করলেন, নাম জানলে চমকে যাবেন!

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালে ওই তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তদন্তের পর সঞ্জয় রাই নামে এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই রায়ে সন্তুষ্ট নন মৃত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাঁদের দাবি, তদন্তে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এবং আরও কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। সেই কারণেই তদন্তের গতি বাড়ানো ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার দাবিতে হাইকোর্টে নতুন মামলা করেন তাঁরা। এখন সেই মামলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে, তা নির্ধারণ করবে প্রধান বিচারপতির পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles