রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আরজি কর আন্দোলনকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে একাধিক নাম। আন্দোলনের মুখ হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কোথাও আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ, কোথাও আবার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ। ঠিক এই আবহেই নতুন করে উত্তাপ ছড়াল আরজি কর আন্দোলনের নেতা অনিকেত মাহাতোকে ঘিরে, যেখানে সরাসরি প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিলোত্তমার বাবা-মা।
প্রথমে আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও, এখন অনিকেত মাহাতোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে তাঁরা আর সহমত নন—এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিলোত্তমার পরিবার। অনিকেতের ডাকে CGO কমপ্লেক্স অভিযানে তাঁরা অংশ নেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন। তিলোত্তমার মা বলেন, অনিকেত যেভাবে আরজি কর আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সামনে আনছেন, তা তাঁরা কোনওভাবেই সমর্থন করেন না। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনের আবেগকে ব্যবহার করে এখন ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে তিলোত্তমার মা আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আইনি লড়াই করে অনিকেত আরজি করেই পোস্টিং পেয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ দিনের মধ্যে পোস্টিং দেওয়ার কথা থাকলেও, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই পোস্টিং কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু লড়াই জেতার পরেও অনিকেত নিজেই জানিয়েছিলেন যে তিনি আরজি কর নেবেন না। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সেই সিট ছাড়ার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছেন।
সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা এখানেই। তিলোত্তমার মায়ের প্রশ্ন, “আমার মেয়ের নামে সহানুভূতি দেখিয়ে টাকা চাইবে কেন?” তাঁর দাবি, এই বিষয়টি তাঁরা কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। একই সুরে তিলোত্তমার বাবাও বলেন, আরজি করের SR শিপ ছাড়া অনিকেতের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁদের মেয়ের নাম ব্যবহার করে জনসমর্থন বা অর্থ সংগ্রহ করা অনৈতিক।
আরও পড়ুনঃ 10-minute delivery: ১০ মিনিটের ডেলিভারির দৌড় থামাল কেন্দ্র, গিগ ওয়ার্কদের সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত!
ঘটনার পিছনে রয়েছে আরও একাধিক জটিলতা। জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি WBJDF-এর নতুন এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে সংগঠন থেকে বেরিয়ে এসেছেন অনিকেত মাহাতো। তিনি আরজি কর থেকে SR শিপ ছাড়তে চাইছেন, কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বন্ড পোস্টিং থেকে বেরোতে গেলে তাঁকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সরকারকে দিতে হবে। সেই অর্থ জোগাড় করতেই তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে সমাজের শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান। তবে সেই আবেদন ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠছে—আন্দোলন আর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত?




