সকালটা ছিল একেবারেই সাধারণ দিনের মত। ট্রেন ধরার তাড়াহুড়ো, বাজারের ভিড় আর দৈনন্দিন ব্যস্ততা—সবকিছু যেন নিজের মতো চলছিল। হঠাৎই ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেল আকাশে। মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। সন্তোষপুর স্টেশনের চারপাশে শুরু হল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যা রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করল যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্টেশনের পাশে একটি দোকান থেকেই প্রথম আগুন দেখা যায়। শুরুতে স্থানীয়রা বালতি ভর্তি জল নিয়ে চেষ্টা করেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই তা আশেপাশের ঝুপড়ি ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় দাহ্য পদার্থের আধিক্য থাকায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্টেশন চত্বর ঢেকে যায় লেলিহান শিখায়।
খবর পেয়ে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টার পরও আগুনের তীব্রতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে ততক্ষণে ক্ষয়ক্ষতি বেশ বড়সড়। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, কোনও একটি দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। যদিও সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে মোট বারোটি দোকান। যাদের জীবিকা এই দোকানের উপর নির্ভর করত, তাদের সামনে এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। আশেপাশের এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সৌভাগ্যের বিষয়, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতির পরিমাণ যে বিপুল, তা স্থানীয়রাই জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ ব্যবসায় উন্নতির সঙ্গে বাস্তুদোষ কাটাতেও সাহায্য করেন বিশ্বকর্মা, বিশ্বকর্মার কৃপা পেতে মানতে হয় কিছু নিয়ম
অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রভাব পড়েছে বজবজ–শিয়ালদহ রেলপথেও। স্টেশনের কাছে আগুন লাগায় ট্রেন আসা-যাওয়ায় দেরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম জুড়ে যাত্রীদের ভিড়, অনেকে হন্যে হয়ে খোঁজ নিচ্ছেন ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচল করা হচ্ছে স্বাভাবিকের তুলনায় কম গতিতে। ফলে অফিসগামী ও নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।





