বিশ্বকর্মা পুজো নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের লড়াই আজও সমান তেজে চলছে। কেউ বলেন এটা নিছক কুসংস্কার, আবার কেউ বলেন ব্যবসা বা সংসারে উন্নতি চাইলে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ চাইতেই হবে। পুরাণে বলা আছে, তিনিই প্রথম বাস্তুশাস্ত্রের রচয়িতা। তাই তাঁকে বাস্তুর আদিপুরুষও বলা হয়। ফলে এই দিনে বিশেষ কিছু টোটকা মানলেই নাকি বাস্তুদোষ কেটে যায়, ব্যবসাতেও আসে উন্নতি। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—আজকের দিনে এগুলোকে কতটা মানা উচিত?
প্রথম টোটকাই নাকি সব থেকে জরুরি। হলুদ কাপড়ের উপর বিশ্বকর্মার মূর্তি বসিয়ে ঘট পূর্ণ জল, আতপ চাল, সুপারি, সাদা সর্ষে ও ফুল অর্পণ করতে হবে। এর সঙ্গে মনোবাসনা জানালে ইচ্ছেপূরণ হয়, এমনটাই বিশ্বাস। সমালোচকরা অবশ্য বলেন, শুধু মূর্তির সামনে দান-দক্ষিণা রাখলেই জীবনের সমস্যা মিটে যায় না। কিন্তু ভক্তদের মতে এই রীতি মানলে মনের ভেতর এক ধরনের বিশ্বাস জন্মায়, যা নিজের কাজ এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় নিয়মও কম বিতর্কিত নয়। এই দিনে ভোরে স্নান সেরে যানবাহন থেকে শুরু করে কারখানার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। তারপর সেগুলিকে পুজো করলে নাকি ব্যবসায় মন্দা কেটে যায়। বিরোধীরা বলেন, যন্ত্রপাতি পরিষ্কার রাখাটা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু তার সঙ্গে দেবতার নাম জুড়ে দেওয়াটা নিছক আচার মাত্র। সমর্থকরা পাল্টা যুক্তি দেন, নিয়ম মানার মধ্যেই যে শৃঙ্খলা তৈরি হয়, সেটাই আসল শক্তি।
তৃতীয় টোটকাটা শোনার পর অনেকেই হাসি চাপতে পারেন। দেবশিল্পীর হাতে একটি ঘুড়ি দিয়ে ব্যবসার স্থানে রেখে দিলে নাকি মন্দা কেটে গিয়ে দ্বিগুণ উন্নতি হয়। সমালোচকদের চোখে এটি অন্ধবিশ্বাসের চূড়ান্ত উদাহরণ। তবে বিশ্বাসীরা মনে করেন, ঘুড়ি মানে উড়ান—অর্থাৎ ব্যবসারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর প্রতীক। একইভাবে, আতপ চাল আর ফুল ছড়িয়ে বাস্তুদোষ কাটানো বা লাল কাপড়ে মুড়ে পেরেক ঝোলানো নিয়েও তর্কের শেষ নেই।
আরও পড়ুনঃ Income Tax ওয়েবসাইটে ভয়াবহ সমস্যা, আয়কর দফতর বাড়াল ITR জমার সময়সীমা কিন্তু কতদিন পর্যন্ত?
সবশেষে আসি নৈবেদ্যের প্রসঙ্গে। বলা হয়, বিশ্বকর্মা পুজোয় বাতাবি লেবু না রাখলেই নাকি পূজা অসম্পূর্ণ। কেউ কেউ বলেন, দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য এমন নির্দিষ্ট ফলের দাবি কোথাও যুক্তি দিয়ে বোঝানো যায় না। অন্যদিকে, ভক্তদের মতে নিয়ম মানলে মানসিক শান্তি আসে, আর সেই বিশ্বাসই উন্নতির পথে এগিয়ে দেয়। প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়—বিশ্বকর্মার পুজোতে এসব টোটকা কি সত্যিই ভাগ্য বদলায়, নাকি সবটাই মানুষের বিশ্বাসের খেলা?





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!