রাজনীতির মঞ্চে অভিজ্ঞতার সঙ্গে কখনও কখনও মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে এমন কিছু কথা, যা ঝড় তোলে দলীয় অন্দরে। ঠিক তেমনটাই ঘটেছে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের বক্তব্য ঘিরে। বরানগরে এক বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে উঠে আসা তাঁর মন্তব্যে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কোন ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল তাঁর কথায়? কার উদ্দেশে সেই বার্তা? এইসব নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে তৃণমূলের উপস্থিতি নিয়ে একাধিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই কি নিজের দলের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করলেন সৌগত রায়? বরানগরের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে দমদমের এই বর্ষীয়ান সাংসদ বলেন, “যদি কোনও পার্টি খেলা-মেলার মধ্যে চলে যায়, তবে তার পলিটিক্যাল সেন্স চলে যায়।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। আরও বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, ৬ মাস পরে নির্বাচন। জেতাটাই এখন একমাত্র লক্ষ্য, অন্য কিছু এখন করবেন না।”
বক্তব্যে স্পষ্ট, দলের ভেতরেই একাংশকে উদ্দেশ করে রীতিমতো সাবধানবার্তা দিয়েছেন সৌগতবাবু। তাঁর মতে, কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন ক্ষমতায় থাকলেই সব শেষ, কিন্তু দল মানে একটা দায়বদ্ধতা— “এটা শহিদদের পার্টি,” বলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে যেন দলের ভেতরে ক্রমবর্ধমান আত্মতুষ্টি এবং সুযোগসন্ধানিতার বিরুদ্ধে এক সোজাসাপটা বার্তা উঠে এসেছে।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধীরা সুযোগ হাতছাড়া করেনি। সিপিএমের যুবনেতা শতরূপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “খেলা-মেলায় তো তৃণমূল আজ যায়নি! এর আগে যখন আমরা সমালোচনা করেছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন— খেলা-মেলা করব না তো কি শ্রাদ্ধ করব? সৌগত রায় বুঝেছেন বোধহয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পলিটিক্যাল সেন্স চলে গেছে।” তাঁর এই কথায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে উঠেছে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, “সৌগত রায় সমাজকে চেনেন, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। মাঝে মাঝে উনি দলের বিবেক হয়ে ওঠেন।” গতকাল ‘SIR’ বিতর্কেও মন্তব্য করে দলীয় অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে গিয়েছিলেন সৌগত রায়— সেটিও তুলে ধরেছেন শমীকবাবু। ফলে স্পষ্ট, দলের ভিতরে কিংবা বাইরে— সৌগত রায়ের একটি মন্তব্যই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন তরঙ্গ তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ Pakistan accuses India : কাবুল বিস্ফোরণ ও পাকিস্তানে হামলার পর ভারতকে দায়ী করল ইসলামাবাদ!
রাজনীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুললেন সৌগত রায়। তবে এই বক্তব্যে একদিকে যেমন বিরোধীরা খোঁচা মারছে, অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশও চুপচাপ পর্যবেক্ষণ করছে প্রবীণ নেতার এই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা। নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিতর্ক যে দলের ভেতরে ভাবনার ঝড় তুলবে, তা বলাই যায়।





“হিরণের বাড়িতে দু’টো বউ, সোহমের কিন্তু একটাই বউ…” দলীয় প্রার্থীর প্রশংসা করে, বিপক্ষ তারকা প্রার্থীকে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল বনাম বিজেপির সংঘাতে উত্তেজনা তুঙ্গে!