Pakistan accuses India : কাবুল বিস্ফোরণ ও পাকিস্তানে হামলার পর ভারতকে দায়ী করল ইসলামাবাদ!

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে আবারও উত্তেজনার ছাপ পড়েছে। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সতর্ক বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারের কাছে এই সম্পর্ক উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তারা বলছে, এই ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক যোগাযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।

পাশাপাশি পাকিস্তান তাদের দেশে সম্প্রতি সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার জন্য আফগানিস্তানের ‘ভারতীয় প্রক্সিদের’ দায়ারোপ করেছে। ইসলামাবাদ দাবি করছে, নয়াদিল্লি আফগানিস্তানকে তার মাটিতে সন্ত্রাসবাদের অপারেশনের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং ভারতের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও জটিল করেছে আফগানিস্তানে গত ৯ অক্টোবরের বিস্ফোরণ। কাবুলের পূর্বাঞ্চলে মধ্যরাতে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে বিমানের আওয়াজ শুনে বিস্ফোরণের শব্দ পান। হামলার লক্ষ্য ছিল টিটিপি নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ, যদিও পরে তার একটি অডিয়ো বার্তায় জানা যায়, তিনি বেঁচে আছেন। এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারতে সফরও সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

একই সময়ে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ডেরা ইসমাইল খানের একটি পুলিশ ঘাঁটিতে পাকিস্তানি তালিবানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় অন্তত দুইজন জওয়ান নিহত হয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা একটি নিরাপত্তা বহরে হামলা চালিয়ে ১১ জন সৈন্যকে হত্যা করেছিল। এসব ঘটনার পর পাকিস্তানি সেনারা অভিযানে নামে এবং দাবী করে যে, তারা সম্প্রতি ৩০ জঙ্গিকে নিহত করেছে।

আরও পড়ুনঃ ElectionAlert: ভোটার তালিকায় আবারও বাংলাদেশি নাগরিকের নাম,এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের তথ্য প্রকাশ!

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি পার্লামেন্টে বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আফগানিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদের কার্যক্রম সহ্য করা যায় না।” পাকিস্তান-ভারত-আফগানিস্তান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্যও এটি একটি বড় নজরদারি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles