কথায় বলে শক্ততে ভক্ত! রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানে ফের তা প্রমাণিত হলো। শ্যামনগরের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডক্টর প্রদীপ ভট্টাচার্যের সম্প্রতি জীবনাবসান হয় করোনায়। তিনি মেডিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের হাতে হাসপাতালের তরফ থেকে ১৮ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার বিল ধরানো হয়। যা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় বয়ে যায় মেডিকার বিরুদ্ধে।
এরপরে নড়েচড়ে বসে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন। বুধবার সকালে বিল রিভিউ করার আর্জি জানিয়ে একটি মেসেজ মেডিকা কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রাক্তন বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই এক ধাক্কায় বিল ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা কমানো হল। এই রাজ্যে প্রথম এই ধরনের ঘটনা ঘটল।
উত্তর ২৪ পরগনায় শ্যামনগরের বাসিন্দা ডক্টর প্রদীপ ভট্টাচার্য এলাকায় ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের তিনি প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা করতেন। নৈহাটি থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রদীপ ডাক্তারকে ভগবান বলেই মানত সাধারণ মানুষ। করোনা পর্বে যখন অধিকাংশ চিকিৎসকের চেম্বার, হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ ছিল তখন একেবারে সামনে থেকে নিজের চেম্বার খুলে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়েছিলেন এই চিকিৎসক। তাঁর চিকিৎসার প্রবল পরিমাণ বিল যখন পরিবার মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল এলাকার মানুষ চাঁদা তুলে নিজেদের প্রিয় ডাক্তারবাবুর চিকিৎসা করার জন্য সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
কিন্তু বেসরকারি ওই হাসপাতালের পাঠানো বিল দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় সকলের। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়। শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে হয় গোটা বিষয়টিতে। প্রদীপ ভট্টাচার্যের বিল পুনরায় যাতে খতিয়ে দেখা হয় এবং কিছুটা যাতে কমানো হয় তার জন্য স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যানের তরফ থেকে মেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানানো হয়। ৫ মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালের তরফ থেকে উত্তর দেওয়া হয়।
ডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঠানো তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে মোট বিল ১৮ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯৫২ টাকা । এই চিকিৎসক ২৩ দিন আইসিইউতে ছিলেন। ওষুধের জন্য বিল হয়েছিল ৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। বিমা কোম্পানির টিপিএ অনুমতি দিয়েছিল ৩ লক্ষ টাকার । এর মধ্যে তাঁর পরিবার হাসপাতালকে ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা জমা করেছিল। এখন বাকি বিলের ওপর তিন লক্ষ ষাট হাজার টাকা ছাড় পাওয়ায় অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তাঁর পরিবার।





