ন্যায়বিচারের লড়াই কখনও একদিনে শেষ হয় না। কিছু কিছু ঘটনায় সেই লড়াই বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে, প্রতিটি শুনানি, প্রতিটি রায় যেন নতুন করে আশা আর আশঙ্কার জন্ম দেয়। উন্নাওয়ের সেই ধর্ষণকাণ্ডও তেমনই এক দীর্ঘ লড়াইয়ের নাম। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশের পর ফের সামনে এল সেই লড়াইয়ের কণ্ঠস্বর, যেখানে স্পষ্টভাবে উঠে এল একটাই দাবি—দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি।
দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক রায় দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছিল। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের সাজা স্থগিত রেখে তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন ওঠে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে। বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই।
সোমবার সেই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। অর্থাৎ আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না কুলদীপ সেঙ্গার। পাশাপাশি চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই সিদ্ধান্তের পরেই প্রকাশ্যে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান উন্নাওয়ের নির্যাতিতা।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কুলদীপ সেঙ্গারের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর লড়াই থামবে না। সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা রেখেই তিনি এই দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানান। তাঁর কথায় উঠে আসে বাবার বিচার পাওয়ার প্রসঙ্গও। একইসঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিচারপতির রায় নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এমন রায় কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতা।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গাঙ্গন নিউ টাউনে! ১৭.২ একর জমিতে ১০৮ দেব-দেবী ও একসঙ্গে মজা উপভোগ করতে পারবেন এক লাখ দর্শনার্থী!
এই মামলার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়। নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইনি সহায়তার আবেদন জানিয়েছিলেন। সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, তদন্তকারী আধিকারিকের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবু আপাতত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বলেই মনে করছেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। ন্যায়বিচারের এই লড়াই যে এখনও শেষ হয়নি, তা আবারও স্পষ্ট।





