বাংলার রাজনীতি যেন প্রতিদিনই নতুন মোড় নিচ্ছে। কখনও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির কটাক্ষ, আবার কখনও বিরোধীদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত নরম সুর। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন, ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এখন যেন সাজানো দাবার বোর্ড। এমন সময় বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রশংসা শুনে চমকে গিয়েছে রাজনৈতিক মহল। এই প্রশংসার আড়ালে কি লুকিয়ে রয়েছে কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ?
শনিবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু একদিকে যেমন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন, তেমনই শেষে কংগ্রেস প্রসঙ্গে এসে তৈরি করে ফেলেন নতুন আলোচনার ক্ষেত্র। তৃণমূলকে ‘ঘোষিত বন্ধু’ বলার পাশাপাশি তিনি বলেন, “যেদিন অধীরবাবুকে প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে সরানো হল, সেদিনই বোঝা গিয়েছিল কংগ্রেস আর মমতার বিরুদ্ধে লড়বে না।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। অধীররঞ্জনকে ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পর বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী কংগ্রেস নেতা’ বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই এখন তুঙ্গে জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য নিছক সৌজন্য নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অধীররঞ্জন চৌধুরী তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। ইন্ডিয়া জোটের শরিক হলেও, বাংলায় তৃণমূল-বিরোধী মনোভাবের জন্য অধীরকে অনেক সময়ই একঘরে হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দিল্লির নির্দেশে তাঁকে সরিয়ে আনা হয় ‘নরমপন্থী’ শুভঙ্কর সরকারকে। সেই থেকেই অধীর কার্যত অন্তরালে। তাই শুভেন্দুর হঠাৎ এই প্রশংসা ঘিরে গুঞ্জন— তবে কি কংগ্রেসের প্রাক্তন এই মুখ এখন পদ্মবনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন?
তবে রাজনৈতিক মঞ্চে শুধু এই প্রসংশাই নয়, অন্য ইস্যুতেও শুভেন্দু দিনভর শিরোনামে। এসআইআর (SIR) ইস্যুতে তিনি বারবার দাবি করেন, “যদি কারও নাম বাদ যায়, পরে সিএএ আইনে নাগরিকত্ব মিলবে।” রাজবংশী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ক্ষোভ বাড়ছে, তা কমাতেই নাকি এই বার্তা— এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুনঃ Sheikh Hasina : “নিরাপত্তা বাহিনীর ভুল ছিল, মৃত্যু*র দায় আমার”— অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শেখ হাসিনা! জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিতে স্বীকারোক্তি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর!
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির মঞ্চে যেন শুরু হয়েছে নতুন খেল। একসময়কার কংগ্রেস নেতা যদি সত্যিই ‘হাত’ ছেড়ে ‘পদ্ম’ ধরেন, তবে তার প্রভাব পড়বে শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, সমগ্র রাজনীতিতেই। আপাতত অধীররঞ্জনের প্রতিক্রিয়া না মিললেও, শুভেন্দুর প্রশংসার রেশে যে রাজনীতি নতুন করে গরম হতে চলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই কোনও মহলে।a





