দলের অন্দরের কোন্দল যেন কিছুতেই থামছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল উত্তর কলকাতার সিঁথি অঞ্চলে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, পুরনো ক্ষোভই এবার রূপ নিল প্রকাশ্য সংঘর্ষে। আর তার জেরে রাতের ঘুম কেড়ে নিল এলাকার সাধারণ মানুষেরও।
বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ৬ নম্বর দমদম রোডে ঘটে উত্তেজক এই ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিধায়ক অতীন ঘোষের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে আচমকাই চড়াও হয় কিছু ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির সোজা কাউন্সিলর কাকলি সেন এবং তাঁর স্বামী ডঃ শান্তনু সেনের দিকে। কয়েকজন আহত কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
তৃণমূলেরই একাংশের অভিযোগ, ওই রাতে এক বৃদ্ধাকেও চড় মারেন কাউন্সিলর কাকলি সেন। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কাউন্সিলরের দমদমের বাড়ির সামনে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখান বিধায়ক অনুগামীরা। রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভ চলে দীর্ঘক্ষণ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে বিধায়ক অতীন ঘোষের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।
তবে কাকলি সেন ও ডঃ শান্তনু সেন তখন বাড়িতে ছিলেন না। জানা গিয়েছে, সেই সময় তাঁরা সিঁথি থানাতেই ছিলেন। সেখান থেকেই বিধায়ক অনুগামীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শান্তনু সেন জানান, “আমার যা বলার, তা আমি লিখিত আকারে প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি।”
তৃণমূল কর্মীদের একাংশ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি পুলিশ দ্রুত কাকলি সেন ও শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বৃহস্পতিবার ফের সিঁথি থানার সামনেই বিক্ষোভ দেখানো হবে বিধায়ক অতীন ঘোষের নেতৃত্বে। ফলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।
আরও পড়ুনঃ Cyclone Wipha Weather Update: ঘূর্ণিঝড় উইফার জেরে বাংলায় ঝড়-বৃষ্টি, কোন কোন জেলায় দুর্যোগ বাড়বে?
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, কলকাতা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই ধরনের গোষ্ঠীকোন্দল রাজ্যের শাসকদলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে দলকে ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে কর্মী স্তরে এই ধরনের বিভাজন তৃণমূলের জন্য উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





